ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

মা-মেয়ে হত্যা

ঋণের প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্য ছিল প্রতিবেশী তেজুর: পুলিশ

ঋণের প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্য ছিল প্রতিবেশী তেজুর: পুলিশ
×

রিমন বড়ুয়া তেজপ্রিয় ওরফে তেজু

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬ | ১৬:৪২ | আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬ | ১৬:৪৩

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল ঋণের দায় থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। এ ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন ভুক্তভোগীদের প্রতিবেশী রিমন বড়ুয়া তেজপ্রিয় ওরফে তেজুকে (৩৮) গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসব জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল রোববার রাতে জেলার পটিয়া থেকে রিমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ সোমবার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম এসব তথ্য জানান।

গত শনিবার রাতে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চেনামতি বড়ুয়াপাড়ায় হত্যার শিকার হন সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) ও মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। এ সময় এ দম্পতির ছেলে পিয়াস বড়ুয়া (৫) আহত হয়। 

সুজন বড়ুয়া চট্টগ্রাম নগরীর খাতুনগঞ্জ এলাকায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত। তিনি এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ৯৯৯-এ খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশ মা-মেয়ের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার পরই জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক দল তদন্ত শুরু করে। তদন্তে পাওয়া তথ্যপ্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও স্থানীয়দের দেওয়া সূত্রের ভিত্তিতে রোববার রাতে পটিয়া থেকে রিমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিমন মা-মেয়েকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলে জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। তাঁর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, অটোরিকশা কেনার জন্য সুজন বড়ুয়ার কাছ থেকে এক লাখ ১৭ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন রিমন। এ টাকা সুদসহ কিস্তিতে পরিশোধের বিষয়ে একটি লিখিত স্ট্যাম্প ছিল। কিন্তু রিমন নিয়মিত টাকা পরিশোধ না করায় দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। স্ট্যাম্পটি উদ্ধার করে ঋণের দায় থেকে মুক্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে রিমন শনিবার রাতে বাড়ির পেছনে ওত পেতে ছিলেন। 

একপর্যায়ে এনি বড়ুয়া ঘরের পেছনের দরজা খুলে বাইরে এলে তাঁকে ছুরিকাঘাত করেন রিমন। তাঁর চিৎকারে মেয়ে প্রিয়ন্তী এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে একটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান রিমন। 

পালানোর সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি খালে ফেলে দেন উল্লেখ করে পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেপ্তারের পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছুরি ও পটিয়ার একটি পুকুর থেকে নিহত নারীর মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। ধারদেনা ও পারিবারিক বিরোধই এ হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। রিমনকে আদালতে হাজির করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার আবেদন করবে পুলিশ।

আরও পড়ুন

×