সিরাজগঞ্জে ছাগলকে কামড়ানোর জেরে দুই কুকুরকে হত্যা
অভিযুক্ত মো. জয়নুল আবেদীন
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬ | ১৫:১৩
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে পালিত ছাগলকে কামড়ানোর জেরে ঘোষণা দিয়ে বেওয়ারিশ কুকুর হত্যা করেছেন মো. জয়নুল আবেদীন ওরফে জুলু খন্দকার (৫৫) নামের এক পাদুকা ব্যবসায়ী। দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুইটি কুকুর হত্যার পাশাপাশি সোমবার সন্ধ্যায় একটি কুকুরকে মারাত্মকভাবে জখম করার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন মঙ্গলবার দুপুরে তার বাড়িতে অভিযান চালালেও অভিযুক্ত জুলু খন্দকার বা তার পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে তাড়াশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ জেড এম নাহিদ হাসান তাড়াশ থানার পুলিশের একটি দল নিয়ে অভিযুক্ত জয়নুল আবেদীন ওরফে জুলুর বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাননি। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, কুকুর হত্যা ও নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর পরিবারসহ জুলু খন্দকার বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন।
স্থানীয়রা জানান, বারুহাস বাজার পাড়া গ্রামের বিশা খন্দকারের ছেলে মো. জুলু খন্দকারের একটি ছাগলকে বাজারে থাকা কোনো একটি কুকুর কামড়ে দেয়। এরপর জুলু খন্দকার একটি লোহার ধারালো ফালা জাতীয় দেশীয় অস্ত্র বানান। এরপর বাজারে থাকা দুইটি কুকুর ওই ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেন। পাশাপাশি সোমবার সন্ধ্যায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আরেকটি কুকুরকে আঘাত করেন। এতে অস্ত্রটি কুকুরের শরীর ভেদ করে এপার-ওপার হয়ে যায়। আর আঘাত পাওয়া রক্তাক্ত কুকুরের আর্তনাদ দেখে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এ সময় কোনো এক ব্যক্তি অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত কুকুরের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেন।
তাড়াশে পাখি ও প্রাণী নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ভিলেজ ভিশন’-এর পরিচালক শরীফ খন্দকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য করেন, কুকুর নিধনের ঘোষণা দিয়ে প্রাণীর প্রতি এ ধরনের নিষ্ঠুরতা মেনে নেওয়া যায় না।
বক্তব্য নেওয়ার জন্য প্রথমে মুঠোফোনে একাধিকবার জয়নাল আবেদীনকে কল করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ প্রসঙ্গে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
আর ঘটনাস্থল থেকে দুপুর ২টার দিকে তাড়াশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ জেড এম নাহিদ হাসান সমকালকে জানিয়েছেন, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখার পর ব্যবস্থা নিতে জয়নুল আবেদীন ওরফে জুলু খন্দকারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে গিয়ে পরিবারসহ কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
