ঢাকা বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

দুই দিনের টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগ

দুই দিনের টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগ
×

প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে কালিয়াকৈরের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার অলিগলিতে গতকাল মঙ্গলবার সকালে দেখা যায় জলাবদ্ধতা সমকাল

 কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬ | ০৮:১৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভায় টানা দুদিনের ভারী বর্ষণে কয়েকটি ওয়ার্ডের ঘরবাড়িতে পানি উঠে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। 
স্থানীয়রা বলছেন, গতকাল মঙ্গলবারসহ দুদিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে কালিয়াকৈরে। এতে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার ‍সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার ছয়, সাত, আট ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে অপরিকল্পিতভাবে ঘরবাড়ি নির্মাণ করায় বৃষ্টির পানি নিচু জমি বা পাশের বিলে নামতে পারছে না। এখন ভারী বৃষ্টির কারণে পানি জমে থাকায় সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়তই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষ বৃষ্টি ও ঘরবাড়ির পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি সরু খাল খনন করলেও এটির পাশে ঘরবাড়ি হওয়ায় তা আরও সরু হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, গত দুই দিনের ভারী বর্ষণে পৌরসভার হরিণহাটি, জোড়াপাম্প, বিশ্বাসপাড়া, ভাঙ্গা মসজিদ, আনসার একাডেমি, পল্লীবিদ্যুৎ, নিশ্চিতপুর, হাবিবপুর, রূপনগর, পূর্বচান্দরা এলাকার সড়ক ও মহাসড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকায় বিপুলসংখ্যক গার্মেন্টস কর্মীর বাস। ফলে সকালে হাঁটুপানি মাড়িয়ে তাদের কাজে যেতে হচ্ছে। পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় একাধিক কারখানায় পানি ঢুকে পড়ায় প্রায় ১৬টি শিল্পকারখানা ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। জলাবদ্ধতা দেখা দেয় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কেও। সেখানে যানবাহন ধীরগতিতে চলতে দেখা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা আরিফ হোসেন, শরিফ আহমেদ ও টুটুল জানান, বিশ্বাসপাড়া, হরিণহাটিসহ পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য দুটি খাল রয়েছে। একটি হরিণহাটি, মাটিকাটা হয়ে মকস বিলে চলে গেছে। অন্যটি বিশ্বাসপাড়া আনসার একাডেমি হয়ে মকস বিলে গেছে। এই দুটি খালের মূল মাথায় তিনটি বহুতল ভবন তৈরি করেছেন কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। এ ছাড়া আনসার একাডেমির তিন নম্বর গেটের সামনে যে কালভার্ট রয়েছে সেটি বন্ধ করে দিয়ে বহুতল ভবন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। এতে বিশ্বাসপাড়া ও হরিণহাটি এলাকায় জলাবদ্ধতা বেশি হয়েছে। আমরা তাদের অনেকবার বলেছি কিন্তু তারা বিষয়টি আমলে নেয়নি। 

স্থানীয়রা জানান, এসব এলাকায় বিভিন্ন শিল্পকারখানার শ্রমিকরা ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। গতকাল বৃষ্টির পানি ওইসব বাড়িতে ঢুকে যাওয়ায় অনেকেরই জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে।
জেলা মোটরমালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক দেওয়ান জসিম উদ্দিন বলেন, সকাল থেকেই আমরা পানি নিষ্কাশনের জন্য স্বেচ্ছায় জনবল নিয়োগ করেছি। পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই পানি নিষ্কাশনের জন্য কাজ করছেন।
কালিয়াকৈরের ইউএনও ও পৌরসভার প্রশাসক এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, জলাবদ্ধতার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। খালের ময়লা পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের জন্য জনবল নিয়োগ করা হয়েছে। আশা করছি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমে যাবে।

আরও পড়ুন

×