ঘূর্ণিঝড় বুলবুল: মোংলা বন্দরে বিশেষ সতর্কতা
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০১৯ | ০৫:২৮
বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করা প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র প্রভাবে ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর ও সংলগ্ন সুন্দরবনের নদ-নদী খুবই উত্তাল রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে মোংলা বন্দরসহ সুন্দরবন উপকূলের আশপাশের এলাকায় শুক্রবার দুপুর থেকে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করেছে।
আবহাওয়া অধিদফতর সকালে চার নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বঙ্গোপসাহরের সুন্দরবন উপকূলের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া টর্নেডোর কবলে পড়ে একটি ফিসিং ট্রলার ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র প্রভাবে মোংলা সমুদ্র বন্দরে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে খোলা হয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষের তিনটি কন্ট্রোল রুম।
বন্দরে এই মুহূর্তে মেশিনারি, ক্লিংকার, সার, জিপসাম, পাথর, সিরামিক ও কয়লাসহ মোট ১৪টি বাণিজ্যিক জাহাজ অবস্থান করছে। এসব জাহাজে পণ্য খালাসে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফকর উদ্দিন জানান, ঘূর্ণিঝড়ের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে কন্ট্রোল রুম খোলাসহ বন্দরের সব নৌযান ও স্থাপনায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যাতে আবহাওয়ার অবনতি হলেই নৌযানগুলো নিরাপদ আশ্রয় নিতে পারে। এছাড়া বড় বড় বিভিন্ন স্থাপনার উপরও বিশেষ নজর রাখা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র পর্যবেক্ষণে উপজেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ পৃথক কন্ট্রোল রুম খুলেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. রাহাত মান্নান এ তথ্য জানিয়ে বলেন, প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের কারণে উপজেলার সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুতিমূলক সভা করা হয়েছে।
সকালে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সাইক্লোন শেল্টারগুলি প্রস্তুত রাখার কথা বলা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে মাইকিং করে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নাহিদ হোসেন জানান, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ মিলে এ উপজেলার মোট ৭৮টি সাইক্লোন শেল্টার দুর্গতদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যাতে তারা সেখানে নিরাপদ আশ্রয় নিতে পারেন।
এদিকে সুন্দরবনে মৎস্যজীবীদের সংগঠন ‘দুবলা ফিসারম্যান গ্রুপে’র সভাপতি কামাল উদ্দিন আহম্মেদ জানান, বুলবুল’র প্রভাবে সাগরের সুন্দরবন উপকূলসহ সংলগ্ন নদ-নদীগুলো খুবই উত্তাল রয়েছে। প্রচণ্ড ঢেউয়ের কারণে মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকাগুলো টিকতে না পেরে তীরে ফিরে আসতে শুরু করেছে।
এরইমধ্যে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বঙ্গোপসাগরের সুন্দরবন উপকূলের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া টর্নেডোর কবলে পড়ে একটি ফিসিং ট্রলার ডুবে গেছে। ডুবে যাওয়া ট্রলারের জেলে জাহাঙ্গীর আলমকে (৪৫) সাগরে ভাসমান অবস্থায় র্যা ব ও দুবলা ফিসারম্যান গ্রুপের জেলেরা উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া জেলের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি এলাকায়।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহমুদুল হাসান জানান, ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এরইমধ্যে বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে।
- বিষয় :
- ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’
- সুন্দরবন
- বঙ্গোপসাগর
- সতর্কতা