ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

কুমারখালী পৌরসভা

উন্নয়নকাজের ধীরগতিতে ক্ষোভ এক মাসের আলটিমেটাম

উন্নয়নকাজের ধীরগতিতে ক্ষোভ এক মাসের আলটিমেটাম
×

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬ | ০৭:৪১

| প্রিন্ট সংস্করণ

এক বছর মেয়াদের কাজ দুই বছরেও শেষ হয়নি। এতে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। ঠিকাদার ও পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলায় দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন তারা। প্রায় ৩৬ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ এখন মানুষের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। থমকে গেছে ব্যবসা-বাণিজ্য। আগামী এক মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পৌরবাসী।

গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের উত্তর দিক বন্ধ করে কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে এমন হুঁশিয়ারি দেন তারা। কুমারখালী সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগী পৌরবাসীর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় যুব অধিকার পরিষদের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শাকিল আহমেদ তিয়াস। বক্তব্য দেন জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী কে এম আর শাহিন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জিলাল, কুমারখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি খন্দকার লিপু আমীর প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে পৌর প্রশাসক ও ইউএনও ফারজানা আখতারের কাছে স্মারকলিপি দেন তারা।
সরেজমিনে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দেখা যায়, কুষ্টিয়া-রাজাবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের উত্তর দিকে চলছে মানববন্ধন। আটকে রয়েছে কিছু যানবাহন। এ সময় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জিলাল বলেন, নির্মাণকাজে প্রশাসনের নজর নেই। ঠিকাদাররা কাজের নামে পৌরবাসীকে জিম্মি করে রেখেছেন। এতে ভেঙে পড়েছে স্বাভাবিক চলাচল। থমকে গেছে ব্যবসা-বাণিজ্য। প্রচণ্ড দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন পৌরবাসী।

কুমারখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি খন্দকার লিপু আমীর বলেন, প্রায় দুই বছর আগে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণকাজ শুরু হলেও এখনও শেষ হয়নি। সবখানে গর্ত খুঁড়ে রাখায় দুর্ঘটনা ঘটছে। শিশুর প্রাণ যাচ্ছে। বৃষ্টিতে ভোগান্তি হচ্ছে। আগামী এক মাসের মধ্যে কীভাবে নির্মাণকাজ শেষ করবেন সেটি আপনাদের (প্রশাসন) বিষয়। না হলে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
যুব অধিকার পরিষদের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শাকিল আহমেদ তিয়াস বলেন, ‘উন্নয়নকাজের ধীরগতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে।’ দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন শেষে প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে বক্তারা জানান।
পৌর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আইইউজিআইপি প্রকল্পের আওতায় ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ধাপে ধাপে ড্রেন ও সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এর মধ্যে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্প বর্তমানে চলমান। অধিকাংশ কাজই নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়েও কাজের অগ্রগতি প্রায় ৭০ ভাগ (মে মাস পর্যন্ত)। এ বিষয়ে গত ১৬ মে সমকালে ‘৩৬ কোটি টাকার প্রকল্প এখন মৃত্যুফাঁদ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়।
জানতে চাইলে পৌরসভার প্রশাসক ও ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, ‘জনবল সংকটসহ নানা কারণে এতদিন নিবিড় তদারকি সম্ভব হয়নি। শিশুমৃত্যুর ঘটনায় ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কাজ কঠোরভাবে মনিটর করা হচ্ছে।’ খুব দ্রুতই কাজ শেষ করার প্রত্যাশা তাঁর। তবে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাননি ইউএনও।

আরও পড়ুন

×