ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

ঢালাইয়ের তিন দিন পর হাতে উঠে এলো পিচ

ঢালাইয়ের তিন দিন পর হাতে উঠে এলো পিচ
×

কয়রার মাদারবাড়িয়া-রোনবাগ সড়ক সংস্কারের পর হাত দিয়ে টান দিতেই উঠে আসছে পিচ। গত মঙ্গলবারের ছবি সমকাল

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬ | ০৭:৪৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনার কয়রায় একটি সড়কে পিচঢালাই দেওয়ার তিন দিনের মধ্যেই হাতের টানে উঠে এসেছে পিচ। এতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সড়কটির সংস্কার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের মাদারবাড়িয়া-রোনবাগ সড়কে এ ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা বলছেন, সাব-ঠিকাদার বিএনপি নেতার ভাই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারসহ কাজে ব্যাপক অনিয়ম করেছেন। এ অবস্থায় সড়কটি নতুন করে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করছেন সাব-ঠিকাদার শেখ আবু হাসান।

কয়রা উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় একই প্যাকেজে দুটি অংশে আড়াই কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নকাজ করা হবে। এর মধ্যে মহারাজপুর ইউনিয়নের মাদারবাড়িয়া-রোনবাগ সড়কে একটি আরসিসি বক্স কালভার্টসহ এক কিলোমিটার সড়কের শুরু হয়েছে। একই প্যাকেজে বেদকাশি এলাকায় দেড় কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন করা হবে। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে ডাকা দরপত্রে এ জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে দুই কোটি ৬৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ওই বছরের ১৪ নভেম্বর কাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় একাধিকবার সময় বাড়িয়ে সর্বশেষ চলতি বছরের ৩০ জুন কাজ শেষ হওয়ার কথা।
কাজের সাইটে গিয়ে দেখা গেছে, মহারাজপুর ইউনিয়নের মাদারবাড়িয়া-রোনবাগ সড়কের বিভিন্ন স্থানে নতুন কার্পেটিং ও গাইডওয়ালে ফাটল ধরেছে। কোথাও কোথাও হাতের সামান্য চাপেই উঠে আসছে পিচের আস্তরণ। স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কের নতুন পিচ হাত দিয়ে তুলে ফেলেছেন। সড়কের মাঝামাঝি অংশে নতুন একটি আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। তাঁর পাশেই ভঙ্গুর অবস্থায় পড়ে আছে পুরোনো একটি কালভার্ট। প্রকল্প এলাকায় কোনো তথ্যফলক বা সাইনবোর্ড নেই।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুরোনো কালভার্ট অপসারণ না করেই তাঁর ওপর দিয়ে পিচ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কয়েক দিন ধরে সড়কে পিচ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। তিন দিন আগে দেওয়া পিচের বিভিন্ন অংশ উঠে যেতে থাকলে বাকি অংশে পিচ ঢালাইয়ের সময় এলাকাবাসী কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।
মহারাজপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জামাল ফারুক বলেন, রাস্তার ওপর খুবই পাতলা করে পিচ দেওয়া হয়েছে। পিচের নিচের অংশ পরিষ্কার না করেই ধুলাবালি ও মাটির ওপর ঢালাই করায় তা হাত দিয়ে টান দিলেই উঠে যাচ্ছে। প্রতিবাদস্বরূপ গত মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় লোকজন সড়কের দুটি স্থানের কিছু অংশের পিচ হাত দিয়ে তুলে ফেলেছেন। এ অবস্থায় আবার একইভাবে পিচ দেওয়া শুরু হলে এলাকাবাসী বাধা দেন।

সড়কের পাশের বাড়ির বাসিন্দা মো. রুস্তম আলী বলেন, সড়কটির খালের পাড়ঘেঁষা অংশ অনেকটা নিচু। সেখানে পিচ ঢালাইয়ের সময় রোলার চালাতেই ফাটল ধরেছে। এভাবে কাজ হলে বর্ষার সময় সড়কের ওই অংশ ধসে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। 
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কাজের মূল ঠিকাদারকে কখনই দেখা যায়নি। ঠিকাদারের হয়ে কয়রা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা শেখ আব্দুর রশিদের ভাই শেখ আবু হাসান কাজটি করছেন। শুরু থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে নিম্নমানের কাজ করার অভিযোগ ওঠে। 
জানতে চাইলে কাজের সাব-ঠিকাদার শেখ আবু হাসান বলেন, এলজিইডির নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। কাজে বড় ধরনের কোনো ত্রুটি নেই। রাস্তার ওপরের অংশের পিচ কিছুটা উঠে যাওয়াকে অনেকেই সমস্যা ভাবছেন। কিন্তু এটি কাজের একটি ধাপ। এখনও আর এক দফা পিচ দেওয়া হবে। তখন রাস্তা মজবুত হবে।
এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন বলেন, বিটুমিন ঢালাইয়ের পর রাস্তা পুরোপুরি মজবুত হতে অন্তত সাত দিন সময় প্রয়োজন। তবে কাজে প্রাইম কোট না দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ জন্য পুরোনো প্রাইম কোটের ওপর কার্পেটিং না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিটুমিন দেওয়ার পরও ঢালাই উঠে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। 
 

আরও পড়ুন

×