তথ্য চুরির অভিযোগে রাবির হল ভিপির সিট বাতিল, ফিরে পেলেন ‘অনুরোধে’
ফাইল ছবি
রাবি সংবাদদাতা
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ | ২১:১৬
হলের দপ্তর থেকে এক শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত তথ্য চুরির অভিযোগে আবাসিকতা বাতিল করা হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ আমীর আলী হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) নাঈম ইসলামের। তবে একদিন পরই মঙ্গলবার বিকেলে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে হল প্রশাসন। এ দিকে নাঈমের বিরুদ্ধে ৬মাস আগে ছাত্রত্ব শেষ হলেও ২৪১ নম্বর কক্ষে থাকার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত সৈয়দ আমীর আলী হল সংসদ সহ-সভাপতি (ভিপি) নাঈম ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি গত বছর ১৬ অক্টোবর তিনি ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট প্যানেল থেকে নির্বাচিত হন।
হল প্রশাসন বলছে, হল ভিপি নাঈম ইসলাম হলে প্রায় সময়েই ঔদ্ধত্য আচরণ করেন। ছয় মাস আগে ছাত্রত্ব শেষ হলেও তিনি প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই এতদিন হলে অবস্থান করেছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে গত ২৮ জুন হলে অবস্থান করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০ বর্ষের মাস্টার্সের পরীক্ষা শেষ হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের নিয়ম অনুযায়ী, মাস্টার্সের শেষ পরীক্ষার পরে একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ১৫ দিন হলে অবস্থান করতে পারবেন। তবে হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাদের দায়িত্ব শেষ হওয়া পর্যন্ত হল প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে হলে থাকতে পারবেন, এমন সিদ্ধান্ত নেয় প্রাধ্যক্ষ পরিষদ। তবে সেই নিয়মের ভেঙে গত ছয়মাস কোনো অনুমতি ছাড়াই হলের ২৪১ নম্বর কক্ষে থাকেন হল ভিপি।
তার এই অবস্থানের বিষয়কে অবৈধ দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন আমীর হামজা নামের ওই হলের একজন আবাসিক শিক্ষার্থী। তিনি শাখা ছাত্রদলের কর্মী। তার এই অভিযোগের পরে হলের দপ্তর থেকে আমীর হামজার আর্থিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে সিটের জন্য করা আবেদনপত্র ফেসবুকে পাল্টা পোস্ট করেন নাঈম ইসলাম। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রদল কর্মী পরিচয়ে সুবিধা নিতে এই আবেদন করেছেন।
পরে গত রোববার ওই শিক্ষার্থী হল প্রাধ্যক্ষের কাছে এক আবেদনে ব্যক্তিগত তথ্য চুরির অভিযোগ জানান। এ বিষয়ে সোমবার হল প্রশাসন একটি সভা করে হল ভিপির আবাসিকতা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে হল সংসদের নেতাদের অনুরোধে মঙ্গলবার আবাসিকতা বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আমির আলী হল সংসদের ভিপি নাঈম ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থী হল সংসদ বা রাকসুর প্রতিনিধি নির্বাচিত হলে, তার ছাত্রত্ব শেষ হলেও দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে পূর্ণ মেয়াদ পর্যন্ত হলে থাকার বৈধ অধিকার রয়েছে। সৈয়দ আমীর আলী হলের ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা আমার নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘দখলদারিত্বের’ মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন।
তিনি আরও বলেন, আমি হল অফিস থেকে জাহিদ ভাইয়ের একটি ব্যক্তিগত তথ্যের প্রয়োজনে ফরম দেখতে যাই। সেখানে গিয়ে আমি দেখতে পাই, কোনো নোটিশ ছাড়াই ৪-৫ জন ছাত্রদল কর্মীকে গোপনে আবাসিকতা দেওয়া হয়েছে। প্রভোস্ট কোনো নিয়ম না মেনে কেবল ‘দারিদ্রতার’ অজুহাতে এবং কোনো স্বচ্ছতা ছাড়াই ছাত্রদলের ছেলেদের গোপনে সিট দিয়েছেন, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করেছে।
এ বিষয়ে সৈয়দ আমীর আলী হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হারুনর রশীদ সমকালকে বলেন, ‘নাঈম আগেও হলের কর্মকর্তাদের থেকে তথ্য নিয়েছে। এই বিষয়টি জানার পরে আমি নাঈমের সঙ্গে যোগাযোগ করি কিন্তু সে অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অছাত্রসুলভ আচরণ করে। পরবর্তীতে আমরা হল প্রশাসন ও হাউজ টিউটরদের সঙ্গে নিয়ে তার আবাসিকতা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু আজ হল সংসদের নেতারা অনুরোধ করেন বিষয়টি সমাধান করার। ফলে তাদের অনুরোধে সিদ্ধান্তটি স্থগিত করা হয়েছে।’
ভিপির হলের অবস্থানের বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক হারুনর রশীদ বলেন, ‘প্রাধ্যক্ষ পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছাত্র প্রতিনিধিরা ছাত্রত্ব শেষ হলেও অনুমতি নিয়ে হলে থাকতে পারবেন। কিন্তু নাঈম হল ভিপি কোনো আবেদন বা অনুমতি ছাড়াই হলে অবস্থান করতেন। পরে যখন অভিযোগ আসতে শুরু করলে গত ২৮ জুন সে একটি আবেদন করে হলে থাকার অনুমতি চেয়েছেন।’
