ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, টেঁটাবিদ্ধ ১৮

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, টেঁটাবিদ্ধ ১৮
×

ছবি: সমকাল

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ | ২১:৩০

বাঞ্ছারামপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৮ জন টেঁটাবিদ্ধ। সংঘর্ষের সময় ২০-২৫টি বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

গত সোমবার ভোর ৫টার দিকে সোনারামপুর ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

টেটাবিদ্ধরা হলেন– লালু মিয়া, সোরহাব মিয়া, রাসেল মিয়া, ফারুক মিয়া, আরমান মিয়া, শরীফ মিয়া, মাসুদ মিয়া, সবুজ মিয়া, সুজন মিয়া, নিজাম উদ্দিন, নজরুল ইসলাম, তারা মিয়া, আউয়াল মিয়া, সুরুজ মিয়া, আল ইসলাম, ফজলু মিয়া, দিনা আক্তার, ইয়ামিন মিয়া। তাদের মধ্যে চারজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে আরও রয়েছেন– আল-আমিন, বাদশা মিয়া, বকুল মিয়া, রিপন মিয়া, আলমগীর হোসেন, হাবিউল্লাহ। তাদের নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, সোনারমপুর ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামের শেবু সরকারের বাড়ির সঙ্গে আজগর আলী সরকার বাড়ির দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। গত কোরবানি ঈদের এক মাস আগে হোসেন মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে শেবু সরকারের বাড়ির মুক্তার হোসেনের লোকজন মারধর করে হাত-পা ভেঙে দেয়। এই ঘটনার প্রতিবাদ করলে ঈদের দুই দিন পর হোসেন মিয়া নামে আরেকজনকে পিটিয়ে আহত করে। এর জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে আজগর আলী সরকার বাড়ির লোকজনকে এলাকা ছাড়া করে মুক্তারের লোকজন। গত সোমবার ভোরে তারা বাড়িতে ফিরলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তারা।

আজগর আলী সরকার বাড়ির ফরহাদ হোসেন জানান, গত কোরবানি ঈদের এক মাস আগে হোসেন মিয়া নামে একজনকে মুক্তার হোসেনের লোকজন মারধর করে হাত-পা ভেঙে দেয়। এই ঘটনার প্রতিবাদ করলে ঈদের দুই দিন পর হোসেন মিয়া নামে আরেকজনকে পিটিয়ে আহত করে। এরপর দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে আজগর আলী সরকার বাড়ির লোকজনকে এলাকা ছাড়া করে মুক্তারের লোকজন। গত সোমবার ভোরে তারা বাড়িতে ফিরলে মুক্তার হোসেনের লোকজন তাদের ওপর হামলা করে। এ সময় তাদের ১০-১৫টা বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।

শেবু সরকার বাড়ির মুক্তার হোসেনের ভাষ্য, প্রতিপক্ষের লোকজন সোমবার ভোরে তাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে। তাদের ১৫-২০টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা করে।

বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াসিন জানান, শান্তিপুরে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ওই এলাকায় এক মাস পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এখনও কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×