ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

মাদ্রাসাছাত্রকে হাত-পা বেঁধে পেটালেন তিন শিক্ষক, ৫ হাজার টাকায় মীমাংসা

মাদ্রাসাছাত্রকে হাত-পা বেঁধে পেটালেন তিন শিক্ষক, ৫ হাজার টাকায় মীমাংসা
×

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী

বরিশাল ব্যুরো ও ইন্দুরকানি (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬ | ১৮:২০

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় একটি হেফজ মাদ্রাসায় ১১ বছর বয়সী এক ছাত্রকে হাত-পা বেঁধে বেত্রাঘাত করার অভিযোগ উঠেছে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয় এবং শিশুটির চিকিৎসা খরচ হিসেবে ৫ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জুলহাস সরদার (১১) জিয়ানগরের পত্তাশী গ্রামের মিরাজ সরদারের ছেলে। সে পত্তাশী দারুল উলুম নেছার উদ্দিন মাদ্রাসার হেফজ বিভাগে প্রায় দুই বছর ধরে অধ্যয়ন করছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সহপাঠীদের সঙ্গে ‘খারাপ আচরণ’ করার অভিযোগে এক সপ্তাহ আগে মাদ্রাসার একটি কক্ষে তাকে হাত-পা বেঁধে বেত দিয়ে পেটানো হয়। এতে মাদ্রাসার তিন শিক্ষক নাজিমা তালিম, সাকিব হোসেন ও ওসমান হোসেন জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি জানানো হলে শিশুটির চাচা জামাল সরদারকে ডেকে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সাত দিন পর মঙ্গলবার মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অভিভাবকদের নিয়ে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আলী হোসেন, পত্তাশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কবির হোসেন খান এবং মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বৈঠকে ডাকা হয়নি বলে জানা গেছে। সালিশে শিশুটির চিকিৎসা খরচ বাবদ ৫ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না থাকায় বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা।

শিশুটির চাচা জামাল সরদার বলেন, ‘আমার ভাতিজাকে নির্যাতনের বিষয় জানালে তারা শুধু ওষুধ খরচ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কোনো শিক্ষকের শাস্তি হয়নি। এলাকাবাসীর চাপে আমরা সালিশের রায় মেনে নিতে বাধ্য হয়েছি।’

তবে সালিশকারীদের একজন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আলী হোসেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী ‘খারাপ কাজ’ করায় তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে এবং পরে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।

মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন জানান, ঘটনার পর বিষয়টি জানতে পেরে সভা করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

×