ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

এনসিপির সভায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি: জেলা পুলিশ সুপার

এনসিপির সভায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি: জেলা পুলিশ সুপার
×

ছবি : সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ | ০৪:২৩

সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ঢাকা জেলা পুলিশ। ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেছেন, তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।

তিনি জানান, ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সার্কেল এসপি রাকিবুল ইসলাম ইশান এবং সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর মোহাম্মদ। তদন্তের প্রয়োজনে কমিটির সদস্যসংখ্যা বাড়ানো হতে পারে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ সুপার বলেন, যে ঘটনা ঘটেছে, সেটি অবশ্যই অনাকাঙ্ক্ষিত। খবর পাওয়ার পর আমি নিজে এসপি ঢাকা থেকে এখানে চলে এসেছি। ওনাদের পদযাত্রা কর্মসূচিতে আমাদের পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, তাদের পাকিজা মোড় থেকে রিসিভ করে সামনে-পেছনে নিরাপত্তা দিয়ে এখানে আনা হয়। আনার পর আমরা যতটা জানতে পেরেছি, বক্তৃতা চলাকালে হঠাৎ করে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এটা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত, হওয়ার কথা না। পুলিশ সেখানে ছিল। সাভারের ওসি, সার্কেল এসপি সেখানে ছিলেন। তারা সঙ্গে সঙ্গে মঞ্চে থাকা এনসিপির নাহিদ, সারজিসসহ শীর্ষ নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমরা তদন্ত করে দেখছি। ইতোমধ্যে সাভার অতিরিক্ত সার্কেল এসপিকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছি। মামলা হলে ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, যে বা যারা থাকুক, অবশ্যই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

সভা শুরুর আগে আকস্মিক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানান জেলা পুলিশ সুপার। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আপনারা আরেকটি বিষয় জানতে পেরেছেন, তৎক্ষণাৎ এখানে বিদ্যুৎ চলে যায়। সেই বিষয়ে বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করেছি। এটাকেও সন্দেহের বাইরে রাখছি না। কোথাও কোনো কিছুই আমরা সন্দেহের বাইরে রাখছি না।

বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও বিস্ফোরণের সময়কে গুরুত্ব দিয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা তদন্ত করে অবশ্যই দোষীদের খুব দ্রুত আইনের আওতায় আনব। তদন্তের অনেক বিষয় থাকে। কোনো কিছুই আমরা সন্দেহের বাইরে রাখি না। এই বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেন ওই মুহূর্তে বিদ্যুৎ চলে গেল, এরপরই বিস্ফোরণ ঘটল বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।

এর আগে সোমবার রাত পৌনে ১০টায় সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে এনসিপির ঢাকা জেলা কমিটির আহ্বায়ক নাবিলা তাসনিদের বক্তব্য চলাকালীন সময়ে হঠাৎ বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন আহত হন।

এ ঘটনায় এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের সদস্য সচিব সালামত উল্লাহ রনি বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাত সাড়ে ৯টার দিকে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা তারাপুর মাঠে পৌঁছান। নেতাকর্মীরা মঞ্চে ওঠার আগ মুহূর্তে বিদ্যুৎ চলে যায়। ওই সময় অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করছিলেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। স্থানীয় দুই নেতার বক্তব্য শেষে রাত পৌনে ১০টার দিকে মঞ্চের দর্শক গ্যালারিতে একটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়।

এ সময় মঞ্চে এনসিপি আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা নাহিদ ইসলাম, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সার্জিস আলম উপস্থিত ছিলেন।

বিস্ফোরণের পরপরই এনসিপি নেতাকর্মী-সমর্থক এবং মঞ্চের সামনে থাকা লোকজন আতঙ্কে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। তারা এদিক-ওদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। বিস্ফোরণের পর নেতাকর্মীরা আবার একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে সাভার মডেল থানা সামনে গিয়ে জড়ো হন। পরে সেখান থেকে নাহিদ ইসলাম ও এনসিপি নেতাকর্মীরা হাসপাতালে যান আহতদের দেখতে।

সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আজকের এই ঘটনা পুরোপুরিভাবে সরকার ও প্রশাসনের ব্যর্থতায় ঘটেছে। এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া না হলে ও দোষীদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নাহিদ ইসলাম।

আরও পড়ুন

×