ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

বিশ্ব পরিবেশ দিবস

চ্যালেঞ্জ অসংখ্য, সামলাতে নেই পর্যাপ্ত জনবল

চ্যালেঞ্জ অসংখ্য, সামলাতে নেই পর্যাপ্ত জনবল
×

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পরিচ্ছনতা অভিযানের ফাইল ছবি

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৩২

প্রবল বর্ষণে পাহাড়ধসে প্রাণহানির মধ্যেই কক্সবাজারে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পৃথিবীর দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন সমুদ্রসৈকতের সঙ্গে এই জেলায় মিশেছে অসংখ্য পাহাড়। এসব পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে তোলা হচ্ছে অপরিকল্পিত বসতি। অপরদিকে জেলার মহেশখালী চ্যানেলসহ উপকূলীয় এলাকায় পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) না করেই চলছে বালু তোলা। পরিবেশগত এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত জনবল নেই জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরে। ফলে পরিবেশ আইনে দায়ের অসংখ্য মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া যাচ্ছে না। 

স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ–নদী, বন, পাহাড়, জীববৈচিত্র্য, সাগরতীর ধ্বংস করে একদিকে চলে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মযজ্ঞ, অপরদিকে ক্ষমতাসীন নেতাদের নানা জায়গা দখলের কারণে কক্সবাজারের পরিবেশ সংকটে পড়েছে। তারা বলছেন, অতিরিক্ত ইট-পাথরের ভবনের ভারে সেন্টমার্টিন যেন ডুবতে বসেছে। পাশাপাশি দখল-দূষণের কবলে হারিয়ে যেতে বসেছে বাঁকখালী আর কোহেলিয়াসহ অসংখ্য নদী। হোটেলের পয়ঃবর্জ্যে ভারী করে তুলছে সাগরের দূষণও।

পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এখানে মঞ্জুরীকৃত ১৭ পদের বিপরীতে রয়েছেন মাত্র সাতজন। তাদের মধ্যে আবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক আছেন কক্সবাজারে অতিরিক্ত দায়িত্বে। উপপরিচালককেও একটি প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক করা হয়েছে। যে কারণে তাঁকে সপ্তাহের অধিকাংশ সময় থাকতে হয় ঢাকায়। এ ছাড়া একজন অফিস সহায়ক থাকলেও তিনি কর্মরত আছেন সেন্টমার্টিন দ্বীপে। সব মিলিয়ে এই কার্যালয়ে এখন কাজ করছেন একজন ড্রাইভার, একজন নমুনা সংগ্রহকারী, একজন হিসাবরক্ষক ও একজন এমএলএসএস।

স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির (ইয়েস) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুজিবুল হকের ভাষ্য, কক্সবাজারে পরিবেশ অধিদপ্তরের গুরুত্ব অপরিসীম; কারণ দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন, মেরিন ড্রাইভের জীববৈচিত্র্য, পাহাড় ও বনভূমি রক্ষা, অপরিকল্পিত পর্যটন ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কারণে সৃষ্ট পরিবেশ বিপর্যয় রোধে সরাসরি ভূমিকা পালন করে আসছে এ কার্যালয়টি। বর্তমানে এখানে ড্রাইভার-এমএলএসএসের মতো কর্মীরা আছেন। তাদের দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। এই কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে দ্রুত সময়ের মধ্যে পদায়নের দাবি জানান তিনি। 

এসব সংকটের কথা স্বীকার করেন পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্বে) মো. জমির উদ্দিন। তিনি বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান ও পর্যটন নগরী হওয়ায় কক্সবাজার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এ জেলায় প্রায় ৫৫ শতাংশ জায়গা পাহাড়। রয়েছে তিনটি প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকাও (ইসিএ)। পাহাড় কাটা বন্ধ, ইসিএ এলাকায় অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ ছাড়া থানা ও আদালতে মামলা করা, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পাশাপাশি নিয়মিত কার্যক্রমও চালাতে হয়। বর্তমান জনবল দিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালানোই কঠিন।

আরও পড়ুন

×