প্রকৌশলীকে মারধর ও হুমকি বিএনপি নেতার
শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
শরীয়তপুরের নড়িয়ায় কার্যালয়ে ঢুকে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তাকে মারধর ও হুমকি-ধমকির অভিযোগে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। গত বুধবার নড়িয়া থানায় এই জিডি করেন উপসহকারী প্রকৌশলী মো. তৌফিকুল ইসলাম। এতে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
জিডিতে বলা হয়, গত ২ জুন দুপুর ২টার দিকে এলজিইডির নড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন মো. তৌফিকুল ইসলাম। এ সময় মতিউর রহমান সাগর অফিসকক্ষে এসে উপজেলা প্রকৌশলীর খোঁজ করেন। তিনি নেই বলে জানানো হলে মতিউর রহমান সাগর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এ সময় তিনি অফিসের কর্মকর্তাদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেন। এর প্রতিবাদ জানান তৌফিকুল ইসলাম। তখন মতিউর রহমান সাগর নিজেকে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয় দিয়ে তাঁর শার্টের কলার ধরে চড়-থাপ্পড় মারেন।
এ সময় মতিউর রহমান সাগর এই কর্মকর্তার উদ্দেশে বলেন, ‘উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী ও উপসহকারী প্রকৌশলী মাসুদ রুমিকে মারার জন্য আসছিলাম। তাদের না পেয়ে তোকেই নমুনা দেখিয়ে গেলাম।’
অফিস সহায়ক মো. সজীব হোসেন ও অফিস সহকারী মো. সামসুদ্দিন এগিয়ে এসে বিএনপি নেতা মতিউর রহমান সাগরকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে তাঁকে অফিস থেকে বের করে দেন। এ সময় মামলা-মোকদ্দমা করা হলে আবারও মারধরের হুমকি দেন বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়।
উপসহকারী প্রকৌশলী মো. তৌফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মতিউর রহমান অফিসে এসে কর্মকর্তাদের না পেয়ে গালাগাল শুরু করেন। আমি বাধা দিলে আমার শার্টের কলার ধরে চড়-থাপ্পড় দেন। পরে মামলা না করার জন্যও হুমকি দেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে চুপ ছিলাম। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় বুধবার থানায় জিডি করি।’
এই অভিযোগ অস্বীকার করেন নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগর। তিনি বলেন, ‘গত ছয় মাসের মধ্যে আমি নড়িয়া উপজেলায় যাইনি। যদি আমার বক্তব্য লাগে, তাহলে সরাসরি আমার কাছে গিয়ে (এসে) কথা বলবেন।’
নড়িয়া থানার ওসি বাহার মিয়া বলেন, এলজিইডি অফিসে এসে এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
হুমকি সাংবাদিককেও
এলজিইডি কর্মকর্তাকে মারধর ও হুমকির বিষয়ে একটি জাতীয় সংবাদ মাধ্যমের জেলা প্রতিনিধি খান মোহাম্মদ শিহান অনলাইন সংস্করণে সংবাদ করেছিলেন। এর জেরে মতিউর রহমান সাগর তাঁর (শিহান) হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বার্তা পাঠিয়ে হুমকি দেন। এ বিষয়ে খান মোহাম্মদ শিহান বলেন, ‘আমি পেশাগত দায়িত্বের জায়গা থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ, জিডির কপি ও অভিযুক্তের বক্তব্য নিয়েই সংবাদ প্রকাশ করেছি। এর পরও এ ধরনের হুমকি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’ প্রয়োজনে তিনি এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্ষুব্ধকণ্ঠে মতিউর রহমান সাগর বলেন, ‘পারলে আপনারা কিছু করেন। আমার এক মাসের আয় আপনাদের এই সাংবাদিকদের পেছনে খরচ করে হলেও দেখে নেব। বাঘে ধরলে ছাড়ে, কিন্তু আমি ধরলে ছাড়ি না। যারা আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেছে, সবার বিরুদ্ধে আমি আইনি পদক্ষেপ নেব।’
এমন হুমকির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে শরীয়তপুর জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন সরদার বলেন, ‘সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপদে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য উদ্বেগজনক। আমরা সাংবাদিকরা এ ধরনের হুমকিকে পরোয়া করি না। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে দায়িত্ব পালন অব্যাহত থাকবে।’
নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রয়েল মাঝি সমকালকে বলেন, তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে এলজিইডি কর্মকর্তাকে মারধরের বিষয়ে থানায় জিডি ও সংবাদ প্রকাশের জেরে হুমকির বিষয়টি জেনেছেন। সবার সঙ্গে কথা বলে ঘটনা সত্যতা প্রমাণ হলে মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
- বিষয় :
- মারধর