আগৈলঝাড়া থানায় হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১৮, আসামি ৩৪৩
ছবি: সমকাল
আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬ | ১৯:৫৮
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় গ্রেপ্তার এক আসামির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে থানায় ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় রাতভর অভিযান চালিয়ে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে আগৈলঝাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হামলার পর থেকে থানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর পেছনে কারা জড়িত, তা শনাক্তে তদন্ত চলছে। জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন চুরি মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরের বাবা সিদ্দিক ফকির, বোন শারমিন আক্তার এবং তাঁর কয়েকজন স্বজন। এ ছাড়া হাবিবুর রহমান, রাজু হাওলাদার, তাহমিনা বেগম, মনোয়ারা বেগম, আসমা আক্তার, মমতাজ বেগম, ঝুমুর বেগম, নাজমা আক্তার, তানজিলা আক্তারসহ মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, চুরি মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে গত বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করা হয়। থানার হাজতে থাকা অবস্থায় তিনি দেয়ালে নিজের মাথায় আঘাত করলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সেখান থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে শতাধিক নারী-পুরুষ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে থানায় প্রবেশ করে। এ সময় ডিউটি অফিসার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল হালিমকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে হামলাকারীরা থানার বাইরে অবস্থান নিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। এ ঘটনায় পুলিশ ও হামলাকারীসহ অন্তত ১২ জন আহত হন।
ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, যাকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়ানো হয়েছিল, সেই রিয়াজ ফকির সুস্থ হয়ে শুক্রবার সকালে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
- বিষয় :
- বরিশাল
- থানায় হামলা
- মামলা
- গ্রেপ্তার