ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

বরিশালে বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রধানমন্ত্রী

মতপার্থক্য থাকতেই পারে ঐক্য যেন নষ্ট না হয়

সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা গভীর

মতপার্থক্য থাকতেই পারে ঐক্য যেন নষ্ট না হয়
×

 বাসস

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৫২

| প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের গত ১৭ বছরের মতো আগামীতেও ইস্পাতকঠিন ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দলের ভেতরে মতপার্থক্য থাকতে পারে; কিন্তু তার জন্য যেন ঐক্য নষ্ট না হয়। ঐক্য থাকলে ফ্যাসিস্ট বা কোনো গুপ্তচর দলে ঢুকে সুবিধা নিতে পারবে না। ঐক্যে ফাটল ধরলেই তারা সুযোগ নেবে।
গতকাল সোমবার বিকেলে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত বিভাগীয় এক সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুম, খুন ও চরম নির্যাতনের শিকার হয়েও আপনারা সবাই মিলে দল সামলেছেন। নিজের পরিবারের চেয়ে দলকে বেশি সময় ও অর্থ দিয়েছেন। তখন সবাই সবার পাশে থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে দল চালিয়েছেন। এখন নির্যাতনের সেই ভয় নেই, তাহলে এখন কেন ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারবেন না?

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, বিগত সাধারণ নির্বাচনে যেভাবে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে দলকে জিতিয়ে এনেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ঠিক সেভাবে দলকে জেতাতে হবে। বর্ষার পর আলোচনা করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হবে। এর আগেই তৃণমূলকে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে হবে। তবে দল গোছানোর ক্ষেত্রে ‘হাইব্রিড’ ও ‘গুপ্ত’– এ দুটি বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে তারা কোনোভাবেই নেতৃত্বে আসতে না পারে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আসন্ন প্রধান ধর্মীয় উৎসবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে বলেন, সামনে হিন্দুদের বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান। যে কোনো মূল্যে এই ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে হবে। কেউ যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে ফায়দা লুটতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজর রাখতে হবে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের তথাকথিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে উন্নয়নের নামে আসলে লুটেরাদের পকেটের উন্নয়ন হয়েছে। মেগা প্রজেক্টের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। 

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
এর আগে প্রধানমন্ত্রী বরিশালের ত্রিশগোডাউন বধ্যভূমি এলাকায় সাগরদী খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। সেখানে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ যখন হয়েছিল, দল-মত নির্বিশেষে সকলে মিলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম। মাত্র কদিন আগের কথা, আমরা এই দেশ থেকে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছি। তার মানে আমরা সকলে মিলে কাঁধে কাঁধ রেখে দেশের জন্য, মানুষের জন্য যদি ভালো কাজগুলো করি, তাহলে সকলে মিলে উপকৃত হব।
পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌ প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিনসহ নেতারা খালের দুই পাড়ে একটি করে গাছ রোপণ করেন।

সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা গভীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে। জাতীয় সংকট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
গতকাল সকালে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী জঙ্গলের ভেতরে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের কাছে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহ প্রদান করেন। তিনি হেঁটে বিস্তীর্ণ জঙ্গলজুড়ে সেনাসদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন।

সেনাবাহিনী আগামী দিনে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে আরও সুনাম, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতি অর্জন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা, আধুনিকায়ন এবং সুনাম বৃদ্ধির জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তারা তাঁকে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যপদ্ধতি ও যুদ্ধক্ষেত্রে এর ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দেন। একপর্যায়ে তিনি সেনাসদস্যদের সঙ্গে মাটিতে বসে কিছু সময় কাটান। প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রশিক্ষণ, দায়িত্ব ও মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া গতকাল সকালে গৌরনদীর বাটাজোরে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি গৌরনদীর সরিকল-বাটাজোর খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। উপস্থিত গ্রামবাসীর উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বাংলাদেশকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন। 

ঢাবিতে কর্মসূচি উদ্বোধন আজ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি বিশেষ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। যুবসমাজের উদ্ভাবনী ধারণা, সৃজনশীলতা এবং উদ্যোক্তা সম্ভাবনাকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করার লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের উদ্যোগে এবং এ কর্মসূচির সহযোগিতায় রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

আরও পড়ুন

×