ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন

চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন
×

পাঁচলাইশ থানার চশমা পাহাড় এলাকায় বুধবার পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে সুমাইয়া (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়

 চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৪৫ | আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৪৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

টানা বৃষ্টি, পাহাড়ধস ও প্রাণহানির পর অবশেষে বৈঠকে বসল চট্টগ্রামের পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার অনেক পরে ও পাহাড় ধসে একাধিক মৃত্যুর ঘটনার পর অনুষ্ঠিত এ সভায় পাহাড় ও টিলার বর্তমান অবস্থা নিয়ে নতুন জরিপ করার এবং বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

গতকাল সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস মিলনায়তনে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির ৩২তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন।
সভায় চট্টগ্রামের পাহাড় ও টিলার অতীত এবং বর্তমান অবস্থার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরতে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিটি পাহাড়ের পরিবর্তন, ঝুঁকি এবং দখল পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিবছর বর্ষা শুরুর আগেই পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ বসতি, উচ্ছেদ কার্যক্রম এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি নিয়ে এই সভা আয়োজনের রীতি থাকলেও এবার তা হয়নি। সর্বশেষ ৩১তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত বছরের ২৬ মে। এরপর এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন সভা হয়নি। এর মধ্যেই গত সপ্তাহের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামে পাহাড় ও দেয়াল ধসে চারজনের মৃত্যু হয়। একই সময়ে কক্সবাজার ও বান্দরবানেও পাহাড় ধসে প্রাণ হারান অন্তত ২৫ জন।

সভায় পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা এবং আগাম প্রস্তুতির বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার চাইলাউ মারমা সভায় বলেন, ‘এপ্রিল মাসে কিংবা বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই এ ধরনের সভা হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হয়। এবার ইতোমধ্যে ভারী বৃষ্টি হয়েছে, পাহাড়ধসও ঘটেছে। ভবিষ্যতে শীত মৌসুমেই পরিকল্পনা করে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।’
সভায় অংশগ্রহণকারীরা পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ বসতি চিহ্নিতকরণ, আগাম সতর্কতা, স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ এবং নিয়মিত নজরদারি জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

আরও পড়ুন

×