ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

যমুনার ভাঙনে স্পারের ৩০ মিটার ধস, আতঙ্ক

যমুনার ভাঙনে স্পারের ৩০ মিটার ধস, আতঙ্ক
×

ঢলের পানিতে যমুনা নদীতে প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়ে ধসে গেছে ধুনটের শহরাবাড়ি স্পারের ৩০ মিটার সমকাল

 ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ০৮:১৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে যমুনা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় বগুড়ার ধুনট উপজেলার নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তের কারণে শহরাবাড়ি স্পারের প্রায় ৩০ মিটার নদীতে বিলীন হয়েছে। রোববার থেকে শুরু হওয়া ভাঙন সোমবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

শহরাবাড়ি স্পারের অংশ ধসে পড়ায় ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের শহরাবাড়ি, শিমুলবাড়ি, বানিয়াযান, কৈয়াগাড়ি, রবইতলী, ভান্ডারবাড়ি, ভূতবাড়ি, পুকুরিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বসতভিটা ও সহায়-সম্বল রক্ষার চিন্তায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন নদীপারের বাসিন্দারা।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ২০০১-০২ অর্থবছরে যমুনা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে শহরাবাড়ি ও বানিয়াযান এলাকায় দুটি স্পার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বানিয়াযান স্পারের কাজ শেষ হলেও নকশা ও পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে শহরাবাড়ি স্পারের ৭২৭ মিটার মাটির স্যাংক নির্মাণের পর মূল কাঠামো তৈরির আগেই প্রবল স্রোতে তা ধসে যায়। এর পর বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে স্যাংক রক্ষায় ব্যবস্থা নিলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। 

ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের সাবেক সদস্য ও শিমুলবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম নান্নু মণ্ডল অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী মহল গত দুই বছর ধরে যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। বিষয়টি নিয়ে মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর কর্মসূচি এবং প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে গত বছরের অক্টোবর মাসে শহরাবাড়ি স্পার ও নৌঘাট এলাকায় ভয়াবহ ভাঙনে ৯টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় ৪৩০ মিটার এলাকা নদীতে বিলীন হয়। সে সময় জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও চলতি বর্ষায় আবার ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। শহরাবাড়ি থেকে বানিয়াযান স্পার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং বেশ কয়েকটি স্থান নদীতে চলে গেছে। বালুর বস্তা ও জিও টিউব ফেলেও ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। 

স্থানীয়রা জানান, বর্ষা এলেই ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাতে হয়। ৪০ বছরে যমুনার ভাঙনে ধুনট উপজেলার মানচিত্র থেকে ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের বৈশাখী, রাধানগর, বথুয়ারভিটা, নিউ সারিয়াকান্দি, আটারচর, পুকুরিয়া, ভূতবাড়ি, কৈয়াগাড়িসহ ৮-১০টি গ্রাম বিলীন হয়ে গেছে। এসব গ্রামের মানুষ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।
পাউবো সূত্রে আরও জানা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজিপুর উপজেলার ঢেকুরিয়া থেকে বানিয়াযান স্পার পর্যন্ত ‘যমুনার ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্প’ (রিভেটমেন্ট) বাস্তবায়ন করা হয়। নদীর তীর থেকে মাঝনদী পর্যন্ত জিও টেক্সটাইল ও কংক্রিট ব্লক বসিয়ে কাজ সম্পন্ন হওয়ায় গত এক দশকে ওই অংশে ভাঙন অনেকটাই কমে আসে এবং নদীতীরের মানুষ স্বস্তিতে বসবাস করছিলেন।
তবে পাউবো জানায়, উজানে সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর থেকে ধুনট উপজেলার বানিয়াযান স্পার পর্যন্ত ডানতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ না হওয়ায় বর্তমানে বগুড়ার সারিয়াকান্দি 
ও ধুনট উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নতুন করে ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, শহরাবাড়ি স্পার রক্ষা করা না গেলে ধুনট থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত চলমান যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পসহ সরকারি-বেসরকারি বহু স্থাপনা হুমকির মুখে পড়বে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক জানান, শহরাবাড়ি স্পারের প্রায় ৩০ মিটার অংশ ধসে গেছে। বালুর বস্তা ও জিও টিউব ফেলে ভাঙন রোধের কাজ চলছে।

আরও পড়ুন

×