ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

কমতে শুরু করেছে পানি, বেড়েছে দুর্ভোগ

কমতে শুরু করেছে পানি, বেড়েছে দুর্ভোগ
×

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকার বানভাসি মানুষ কেঁওচিয়া ইউনিয়নের কেঁওচিয়া উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। গতকাল সোমবার তোলা সমকাল

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৪৯ | আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৫৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামসহ ছয় জেলায় বৃষ্টি কমায় নামতে শুরু করেছে পানি। আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে বাড়ি ফিরছে মানুষ। তবে নিজের বাড়িকে আর আগের মতো পাচ্ছে না তারা। বন্যা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ওলটপালট করে দিয়ে গেছে। ফলে নতুন করে শুরু করতে হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস্তাঘাট, অনেক এলাকায় ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। মিলছে না চাহিদামতো সহায়তা, অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটছে হাজার হাজার মানুষের। 

চট্টগ্রামে ৬ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত
চট্টগ্রামে বৃষ্টি কমতে শুরু করায় ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে পানি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে। তবে দুর্গত মানুষের চোখের পানি এখনও শুকায়নি। বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করলেও অনেক কিছুই নতুন করে শুরু করতে হচ্ছে তাদের। অনেক এলাকায় নেই বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, শিশুখাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধ। কোথাও কোথাও নেই বিদ্যুৎ। কিছু এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।  

বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের হিসাবমতে, চট্টগ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ছয় লাখ। অসহায় এসব মানুষ পানি নামতেই ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। কিন্তু ঠাঁই মিলছে না সেখানে। পাচ্ছেন না চাহিদামতো ত্রাণ সহায়তাও। 

জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাবে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রায় ১৪ হাজার ৩০০ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধান, সবজি, পানের বরজসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১০ হাজার বাণিজ্যিক মাছের ঘের ও চিংড়ি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংশ্লি­ষ্ট কর্মকর্তাদের হিসাবে, শুধু মৎস্য খাতেই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৯ কোটি টাকা।
এদিকে পানি নামলেও নতুন উদ্বেগ হয়ে দেখা দিয়েছে জনস্বাস্থ্য। বিভিন্ন এলাকায় নলকূপ এখনও পানির নিচে থাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট তৈরি হয়েছে।  দুর্গত এলাকার অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পানি প্রবেশ করায় সেবা ব্যাহত হয়। পানি কমতে থাকায় সেসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবাপ্রার্থীর ভিড় বেড়েছে। 

কক্সবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ১,৬৬৩ ঘরবাড়ি
এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে বিপর্যস্ত কক্সবাজারে অবশেষে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। রোববার সন্ধ্যা থেকে বন্যার পানি নামছে। ঘরবাড়ি, আঙিনা ও নিচু এলাকায় এখনও জলাবদ্ধতা রয়েছে। সুপেয় পানি, খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রীর সংকটে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে হাজারো মানুষ। পাশাপাশি ভেসে উঠছে প্লাবিত এলাকার ক্ষতচিহ্নগুলো। 
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, জেলার ৭০টি ইউনিয়ন ও ৪টি পৌরসভায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৬৬৩টি বসতবাড়ি। এ ছাড়াও ১৬২৪ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক, ২০১ কিলোমিটার পাকা ও ২২০ কিলোমিটার ইটের সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১৫টি সড়ক/কালভার্ট এবং ৪৩ হাজার ২১০ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বান্দরবানে ২১ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত
বান্দরবানে গত ৫ জুলাই থেকে টানা ভারী ও মাঝারি বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। শহরের কিছু এলাকা ৭-৮ দিন পানিতে তলিয়ে ছিল। গত রোববার সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি নামতে শুরু করে। পানি যতই কমছে ততই বন্যার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ফুটে উঠছে। বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। রাস্তাঘাট ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান বলেন, সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২১ কিলোমিটার। 

রাঙামাটির দুর্গতরা মহাদুর্ভোগে 
রাঙামাটিতে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হলেও দুর্গতদের মহাদুর্ভোগ বেড়েছে। পানি নামার পর বিভিন্ন গ্রামে বসতঘর, কৃষিজমি, সড়ক ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সবচেয়ে বন্যায় ক্ষতি হয়েছে বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়ন। ডুবে যাওয়া ঘরবাড়িগুলোতে কাদায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। গ্রামীণ সড়কগুলোতে কোথাও কোথাও হাঁটু পর্যন্ত কাদা। মারিশ্যা-দীঘিনালা সড়কের তিন কিলো এলাকা নামক স্থানে সড়কধসে পড়ায় যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। 

মৌলভীবাজারে আউশক্ষেত নষ্ট হয়েছে বেশি
মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে এর সঙ্গে ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট হচ্ছে। গ্রামীণ রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় মানুষকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, ২৪৮ হেক্টর জমির আউশ ক্ষেত এবং ৮৬.৫০ হেক্টর আমনের বীজতলা নষ্ট হয়েছে। সবজি নষ্ট হয়েছে ৬৪.৫০ হেক্টর। 

হবিগঞ্জে নিজ বাড়িতে ফিরছে মানুষ 
হবিগঞ্জে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। পানি কমায় এরই মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রসহ পাড়া-প্রতিবেশীদের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া মানুষ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। বন্যার পানি কমলেও কমেনি মানুষের দুর্ভোগ। রাস্তা-ঘাট ও ঘরবাড়িতে কাদা থাকায় অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বানভাসিদের। এদিকে, বন্যার পানি কমায় রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও মাছের ঘের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে। আক্রান্ত স্থানে ধানের চারা নষ্ট হয়ে গেছে। সবজিক্ষেত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন ব্যুরো ও প্রতিনিধিরা)

আরও পড়ুন

×