ম্যারাডোনার পথে মেসি
সেকান্দার আলী
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ১০:২০
ইংল্যান্ডের সঙ্গে আর্জেন্টিনার খেলা মানে তৃতীয় পক্ষের উপস্থিতি অনিবার্য। সেটি হলো ফকল্যান্ড দ্বীপ নিয়ে চলা মনস্তাত্ত্বিক এক লড়াই। আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়রা যে কোনো মূল্যে সংবাদমাধ্যমের সামনে বিষয়টি হাজির করবেনই। খেলা ছাপিয়ে তাই কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়ে ওঠে ফকল্যান্ড দ্বীপ নিয়ে চলা রাজনীতি। এই বিষয়টিকে ফুটবলে আমদানি করেছেন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা। উত্তরাধিকার সূত্রে লিওনেল মেসিরাও মনস্তাত্ত্বিক সে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছেন সেমিফাইনাল ম্যাচের আগে। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয় উদযাপনের স্লোগানই ছিল ফকল্যান্ড, ম্যারাডোনো ও মেসি।
ইংলিশদের মনস্তাত্ত্বিকভাবে চাপে ফেলা ও প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে বিষয়টি সামনে আনে দেশটি। বুধবারের সেমিফাইনাল ম্যাচের আগে বিশ্ব-মিডিয়ায় জায়গা করে নিয়েছে লিওনেল মেসিদের এই মনস্তাত্ত্বিক লড়াই; যাতে নতুন সংযোজন জার্সি বদল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নীল জার্সি পরে খেলতে চায় আর্জেন্টিনা। দেশটির মিডিয়ার খবর অনুযায়ী ফিফার কাছে অনুমোদন চেয়ে আবেদনও করা হয়েছে দলের পক্ষ থেকে। টিম ম্যানেজমেন্ট আশায় আছে ইংলিশদের বিপক্ষে নীল জার্সিতে খেলার অনুমোদন আজ দেবে ফিফা।
ইংল্যান্ড বেশির ভাগ ম্যাচ খেলে সাদা জার্সিতে। হ্যারি কেইনদের হোম জার্সি এটি। বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় আটলান্টায় যে সেমিফাইনাল ম্যাচটি হবে ফিফার নিয়মে তা ইংল্যান্ডের হোম ম্যাচ। স্বাভাবিকভাবেই সাদা রঙের জার্সি পরে ম্যাচটি খেলার কথা তাদের। আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা স্ট্রাইপ জার্সির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার কথা না। এই জার্সিতেই বিশ্বের কাছে পরিচিত তারা। সেই ব্র্যান্ড জার্সির পরিবর্তে নীল জার্সিতে খেলার আবেদনের পেছনে আছে অন্য কারণ। এই নীল জার্সি পরেই ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে কোয়ার্টার ফাইনালে ২-১ গোলে হারিয়েছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা।
‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ দুইভাবেই ম্যাচটি স্মরণীয়। ১২ বছর পর ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে সেন্ট-এতিয়েনে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর নাটকীয় ম্যাচটিও জিতেছিল আর্জেন্টিনা। পেনাল্টিতে ইংল্যান্ডকে বিদায় করে দেওয়ার সময়ও গাঢ় নীল রঙের জার্সিতে খেলেছে তারা। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ইংলিশদের বিপক্ষে ওই দুটি জয় মেসিদের কাছেও প্রেরণা।
কাকতালীয় হোক বা কুসংস্কার, এই স্মৃতি নীল জার্সির আকর্ষণ বাড়িয়ে দিয়েছে বর্তমান দলে। কারণ ইংলিশদের বিপক্ষে আগামীকাল বুধবারের ম্যাচটি সাধারণ কোনো ম্যাচ নয়। এই ম্যাচটি জিততে পারলেই বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট পাবে আর্জেন্টিনা। ম্যারাডোনার পর মেসিও দেশের দ্বিতীয় অধিনায়ক হিসেবে কৃতিত্ব দেখাবেন টানা দুই বিশ্বকাপে ফাইনাল খেলার।
এই বিশ্বকাপে আরও একবার নীল জার্সিতে ম্যাচ খেলেছে আর্জেন্টিনা। জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচটি ৩-১ গোলে জেতেন মেসিরা। ইংলিশদের বিপক্ষে অনেক কারণেই ম্যাচটি জিততে চান তারা। লিওনেল মেসি প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ম্যারাডোনা-উত্তর কিংবদন্তিকেও তো শ্রেষ্ঠত্ব দেখাতে হবে চির প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে। এ কারণেই হয়তো আলভারাজদের লকার রুম উদযাপনেও স্লোগানে ছিল– ফকল্যান্ড, ম্যারাডোনা ও মেসি।