দুই আংশিক কমিটি দিয়ে সাড়ে পাঁচ বছর পার
আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ০৮:১৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার পৌর যুবদল পর পর দুটি আংশিক কমিটি দিয়ে পাঁচ বছর ছয় মাস পার করে ফেলেছে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটি আজও হয়নি। এতে আশাহত নেতাকর্মীরা। ফলে পৌর যুবদলের সাংগঠনিক অবস্থা দিন দিন নাজুক হয়ে পড়ছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে মাহমুদুল্লাহ লিটনকে আহ্বায়ক এবং সুজন মিয়াকে সদস্য সচিব করে একটি আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছিল। এর পর পেরিয়ে যায় পাঁচ বছর। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হয়নি। পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই মাসে আগে এ কমিটি বিলুপ্ত করে যুবদল নেতা আশরাফুল ইসলাম সবুজকে সভাপতি এবং কাউসার আহমেদ বাবুকে সাধারণ সম্পাদক করে ফের পাঁচ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি ঘোষণা করেন।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সিনিয়র সহসভাপতি মো. আল আমিন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সুমন মিয়া। যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন আংশিক এ নতুন কমিটি অনুমোদন করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে ৩০ দিনের মধ্যে আড়াইহাজার পৌর যুবদলের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। পূর্ণাঙ্গ কমিটি এক মাসের মধ্যে গঠনের কথা থাকলেও সাত মাস অতিবাহিত হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা আছে পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের মধ্যে।
জানতে চাইলে পৌর যুবদলের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম সবুজ জানান, তাদের আংশিক কমিটি হয়েছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে। এর পর যুবদলের নেতাকর্মীরা সংসদ নির্বাচনে কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সময়মতো পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা সম্ভব হয়নি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে জেলায় জমা দেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পৌর যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব সুজন মিয়া জানান, তাদের সময় ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। তিনি বলেন, ওই কমিটি করা হয়েছিল দলের দুঃসময়ে। তখন কর্মী সংকট ও সিনিয়রদের সাংগঠনিক জটিলতা, নিজেদের দুর্বল তৎপরতা এসব মিলিয়ে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে পারিনি। পরে কমিটি বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়।
পদপ্রত্যাশী পৌর যুবদলের একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হলে তারা জানান, আড়াইহাজার উপজেলায় রাজনীতির ক্ষেত্রে বিশেষ করে আন্দোলন সংগ্রামসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পৌর যুবদলের একটা বিরাট ভূমিকা থাকে। তাই পৌর যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কোনো বিকল্প নেই। দীর্ঘদিন পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশার কারণে দলীয় কর্মকাণ্ডে আগ্রহ কমে যাচ্ছে এবং মাঠ পর্যায়ে তাদের সংগঠনের উপস্থিতিও আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়ছে।
পদপ্রত্যাশী মো. সুমন মিয়া ও আনোয়ার হোসেন জানান, বিগত দিনে দলের জন্য ত্যাগ ও আন্দোলন সংগ্রামসহ দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে যোগ্য পদে আসীন হবেন বলে মনে করছেন। তাই দলের নীতি নির্ধারকদের প্রতি দ্রুত কমিটি গঠনের জন্য তারা দাবি জানান।
জানতে চাইলে জেলা যুবদলের সভাপতি সাদেকুর রহমান সাদেক জানান, আড়াইহাজার পৌর যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটির কোনো তালিকা এখন পর্যন্ত তিনি পাননি। এমনকি এ শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়ে তাঁর কাছে কেউ আসেননি। যদি পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে আসে তাহলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- কমিটি