সরকারি হাসপাতালের আরও ১০ চিকিৎসকের নামে মামলা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ০৮:১৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল-সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেয়ার রাখার অভিযোগে আরও ১০ সরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এর আগে একই অভিযোগে ছয়জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ১৬ সরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের শৃঙ্খলা শাখা-২ থেকে এ বিভাগীয় মামলার আদেশ জারি করা হয়। অনুমতি ছাড়া বেসরকারি ক্লিনিকে শেয়ার রাখা, কর্মস্থল ত্যাগ, অফিস চলাকালে সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন না করে বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের শৃঙ্খলা-২ শাখার সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদেশ পাওয়ার ১০ কর্মদিবসের মধ্যে কেন তাদের বিরুদ্ধে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অন্য কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন জেলা হাসপাতালের গাইনি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. শাহনাজ খাতুন ফ্লোরা। এছাড়া রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. এএইচএম তোহরুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. রেজা নাসিম রনি, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. সিদ্দিকুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম. মুর্শেদ জামান মিয়া, সহকারী অধ্যাপক ডা. এএসএম আব্দুল্লাহ, সহকারী অধ্যাপক ডা. রোকশানা আমিন, মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আল যোবায়ের, ঢাকার জাতীয় নাক-কান-গলা ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. মো. মাহবুব আলম এবং মহাখালী ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির প্রভাষক ডা. মোস্তফা সানাউল হকও রয়েছেন।
এর আগে একই অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রাফিজা নাসরিন, ডা. খাইরুন নেছা, ডা. শাহারিনা ইসলাম, শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. রেজাউল করিম, অর্থোপেডিক বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মো. ইসমাইল হোসেন এবং সদর উপজেলার মহারাজপুর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. মোসা. মুনিরা খাতুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। এছাড়া শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে শেয়ার থাকার অভিযোগে জেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. শামসুল আলম রাশেদের বিরুদ্ধেও পৃথক বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, সরকারি চাকরিজীবী হয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বেসরকারি ব্যবসায় যুক্ত হওয়া কিংবা সরকারি দায়িত্বে অবহেলা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে অভিযুক্তদের চাকরিচ্যুতিসহ কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে পারে। এ-সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক হারুনুর রশীদ বলেন, সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে বেসরকারি হাসপাতালের শেয়ার কেনা, হাসপাতাল পরিচালনায় যুক্ত থাকা এবং একই সঙ্গে সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগে পাঁচজন লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগে পদ্মা ও ম্যাক্স হাসপাতালের শেয়ারধারী কয়েকজন সরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরা হয়। পরে বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মন্ত্রণালয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন বলেন, অনিয়মের অভিযোগে এ পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১৬ জন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকারি দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য বিভাগের কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
- বিষয় :
- মামলা