চাঁদপুরে ডাকাতির সময় গৃহবধূকে হত্যা, আহত ১
প্রতীকী ছবি
চাঁদপুর প্রতিনিধি ও শাহরাস্তি (চাঁদপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ১২:১৩ | আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ১২:২৬
চাঁদপুরের শাহরাস্তি পৌর এলাকায় একটি বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় রিগান আক্তার মিম (২৬) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ সময় ডাকাতদের হামলায় আহত হয়েছেন একই পরিবারের আরেক গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার (২৪)। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ঘটনার সময় বাড়িতে দুই গৃহবধূ, পরিবারের এক প্রবীণ সদস্য এবং তিনটি শিশু ছিল।
আহত সুমাইয়া আক্তার বলেন, রাত ১২টার দিকে তিন মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে মুখোশ পরা দুই ব্যক্তি ছুরি ঠেকিয়ে তাকে ও শিশুকে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র দাবি করে। আলমারিতে থাকা জিনিসপত্র নিয়ে যেতে বললে ডাকাতেরা তার হাত ওড়না দিয়ে বেঁধে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। পরে তার কানের দুল, আলমারিতে থাকা আরেক জোড়া দুল ও একটি আংটি নিয়ে পাশের কক্ষে চলে যায়।
সুমাইয়া বলেন, পাশের ঘর থেকে বড় জায়ের কান্নার শব্দ শুনতে পেলেও হাত বাঁধা থাকায় তাকে সাহায্য করতে পারেননি।
পরিবারের প্রবীণ সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, রাতে বাড়ির প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে সবাই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। চিৎকার শুনে উঠে দেখেন, ফটক ভেতর থেকে আটকানো থাকলেও তালাটি নেই। পরে বাড়ির বাইরে অক্ষত অবস্থায় তালাটি পাওয়া যায়।
প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেন বলেন, মিমের চিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যান। ঘরের ভেতর ধস্তাধস্তির শব্দ পেয়ে আশপাশের লোকজনকে ডাকেন এবং মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিতে বলেন। পরে বাড়ির পূর্ব পাশের একটি জানালা খোলা দেখতে পান স্থানীয়রা। চেয়ারম্যান, যিনি নিহতের দাদা শ্বশুর, গেট খুলে দিলে তারা ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় সুমাইয়াকে হাত বাঁধা অবস্থায় এবং মিমকে মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার গলায় ওড়না পেঁচানো ছিল। স্থানীয় চিকিৎসক ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে শাহরাস্তি থানার পুলিশ ও কচুয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ আলামত সংগ্রহ করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
কচুয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হাই চৌধুরী বলেন, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।