ভিত্তিপ্রস্তরের এক বছরেও শুরু হয়নি আবু সাঈদ স্মৃতি জাদুঘর স্তম্ভের নির্মাণকাজ
ছবি- সংগৃহীত
রংপুর অফিস
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ১৯:০১
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের মৃত্যুর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণে ঘোষিত প্রকল্পগুলোর দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর নামে তোরণ, স্মৃতি জাদুঘর, স্মৃতিস্তম্ভ ও স্ট্রিট মেমোরি স্ট্যাম্প নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের এক বছর পার হলেও এখনো মূল নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।
২০২৫ সালের ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব স্থাপনার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কর্মকর্তাসহ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তবে এক বছর পরও সেখানে ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক ছাড়া আর কোনো স্থাপনা দৃশ্যমান হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রায় ১ হাজার ৯০ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রকল্পটি এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটসংলগ্ন ভিত্তিপ্রস্তরের ফলকটি অযত্নে পড়ে আছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা সেখানে এলেও স্থায়ী কোনো স্মারক বা নির্মাণকাজের অগ্রগতি না দেখে হতাশ হয়ে ফিরছেন।
আবু সাঈদের সহযোদ্ধা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন বলেন, দুই বছরেও যদি প্রথম শহীদের নামে ঘোষিত তোরণ ও জাদুঘরের নির্মাণকাজ শুরু না হয়, তাহলে তা ইতিহাসের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। আগামী প্রজন্মের কাছে আবু সাঈদের বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার আইকনিক দৃশ্যটি স্মরণীয় করে রাখতে রাষ্ট্র কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যকর কোনো উদ্যোগ আমরা দেখতে পাচ্ছি না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তুহিন ওয়াদুদ বলেন, আবু সাঈদ শুরু থেকেই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। কোটা ব্যবস্থা বহাল থাকলে তাঁর চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা কম ছিল। সেই বাস্তবতা থেকেই তিনি আন্দোলনে যুক্ত হন এবং পরে নেতৃত্বের ভূমিকাও পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর স্মরণে একটি তোরণ নির্মাণের ঘোষণা দিলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বলেন, এ মাসের শেষের দিকে তোরণ নির্মাণের কাজ শুরু হবে। জাদুঘর, স্ট্রিট মেমোরি স্ট্যাম্প ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কাজও খুব শিগগিরই শুরু করা হবে।
- বিষয় :
- আবু সাঈদ
- ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
- নির্মাণকাজ