ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ: মীর হেলাল

আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ: মীর হেলাল
×

নগরীর নন্দনকানন রথের পুকুর পাড় এলাকায় কেন্দ্রীয় রথযাত্রা উদযাপন কমিটির অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। ছবি: মো. রাশেদ

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ১৯:৫২ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ২০:৪৮

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, ‘সব সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে সম্প্রীতির মেলবন্ধন সৃষ্টি করেছে রথযাত্রা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। চট্টগ্রামের তুলসীধাম একটি ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থান। এখানকার ৩০০ বছরের প্রাচীন কেন্দ্রীয় রথযাত্রা বর্তমানে সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।’ 

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর নন্দনকানন রথের পুকুর পাড় এলাকায় কেন্দ্রীয় রথযাত্রা উদযাপন কমিটির আয়োজনে রথপরিক্রমার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

ঋষিধাম অধিপতি ও তুলসীধামের মোহন্ত শ্রীমৎ দেবদীপানন্দ পুরী মহারাজের পৌরহিত্য অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। রথযাত্রার উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় দূতাবাসের সহকারী হাইকমিশনার শ্রী হরিশ কুমার। 

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের এমপি আবু সুফিয়ান, সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি দীপক কুমার পালিত, কেন্দ্রীয় রথযাত্রা উদযাপন কমিটির সভাপতি হিরন্ময় ধর, উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিধান ধর প্রমুখ।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘নন্দনকাননের ঐতিহাসিক রথের পুকুর পাড় আজও এখান থেকে রথপরিক্রমার আয়োজন করে ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। কয়েক হাজার ভক্তের উপস্থিতি আজ আবারও প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশ সত্যিকারের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করে।’ 

শ্রী হরিশ কুমার বলেন, ‘রথযাত্রা ভগবানের বিশেষ কৃপার প্রকাশ। এ সময় ভগবান মন্দির থেকে বেরিয়ে এসে রাজপথে অবতীর্ণ হন। এ কারণেই রথযাত্রাকে বলা হয় সর্বজনীন করুণার উৎসব।’

আবু সুফিয়ান আরও বলেন, ‘একটি গোষ্ঠী নানা অজুহাতে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। তবে বাংলাদেশের সব ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মানুষ বিএনপির হাতে নিরাপদ।’ 

রথযাত্রায় অংশ নেওয়া হাজারও সনাতনধর্মাবলম্বীরা রথযাত্রার দিন সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবি জানান। তারা বলেন, ‘এটা সনাতনীদের প্রাণের দাবি।’

বৃষ্টি উপেক্ষা করে আজ চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক হাজার সনাতনধর্মাবলম্বী ঐতিহ্যের এই রথযাত্রায় অংশ নেন। ছিলেন শিশু থেকে বয়স্করাও। ভক্তরা পায়ে হেঁটে ও ট্রাকে চড়ে নামসংকীর্তন ও জগন্নাথ-সুভদ্রা-বলভর্দের জয়ধ্বনি করেন। এসময় রথ থেকে ভক্তদের প্রদান করা হয় আশীর্বাদ ও প্রাসাদ। রথটি নগরের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় নন্দনকানন রথের পুকুর পাড় এসে শেষ হয়।

প্রসঙ্গত, ১৮শ’ খ্রিস্টাব্দের পর থেকে চট্টগ্রামে রথযাত্রা উৎসব শুরু হয়। কালের পরিক্রমায় এটি বর্তমানে কেন্দ্রীয় রথযাত্রায় রূপ নিয়েছে।

আরও পড়ুন

×