আবু সাঈদ হত্যার বিচার কার্যকর ও স্মৃতি স্থাপনার কাজ দ্রুত শুরুর দাবি
ছবি- সমকাল
বেরোবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ২০:০২
জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহিদ আবু সাঈদের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা আবু সাঈদ হত্যায় জড়িতদের শাস্তি কার্যকর এবং তাঁর নামে ঘোষিত স্মৃতি স্থাপনাগুলোর নির্মাণকাজ দ্রুত শুরুর দাবি জানান।
বৃহস্পতিবার সকালে দিবসের কর্মসূচির শুরুতে পীরগঞ্জ উপজেলার জাফরপাড়ার বাবনপুর গ্রামে শহিদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী। এ সময় শহিদ আবু সাঈদের বাবা, ভাই, জুলাই আন্দোলনের সহযোদ্ধা, আহত শিক্ষার্থী, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
কবর জিয়ারত শেষে উপাচার্যের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে শোক র্যাযলি বের করা হয়। র্যা লিটি শহিদ আবু সাঈদ চত্বর হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে শহিদ আবু সাঈদ চত্বরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী।
এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় জুলাই শহিদদের স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সহযোদ্ধা শাহরিয়ার সোহাগ বলেন, রংপুরের এই মাটির আন্দোলনের মধ্য দিয়েই দীর্ঘ ১৭ বছরের দুঃশাসনের অবসান হয়েছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ১৮ বছরেও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয়করণের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে, তাহলেই আর কোনো ক্যাম্পাসে রক্ত ঝরবে না।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার আদায়ে রাজপথে নেমেছিল। আবু সাঈদের মতো মানুষ যুগে যুগে একজনই জন্ম নেয়। তাঁর আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশ নতুন পথ পেয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বাজেট দেওয়া হয়েছে। সেই বাজেটের আলোকে শুধু বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় নয়, রংপুর অঞ্চলের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করা হবে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, আবু সাঈদ ও ওয়াসিম আকরামদের রক্ত পুরো বাংলাদেশকে নাড়া দিয়েছিল। তাদের আত্মত্যাগের স্মৃতি চিরস্থায়ী করতে সরকার ১৬ জুলাইকে ‘জুলাই শহিদ দিবস’ হিসেবে পালন করছে।
তিনি আরও বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের কিছুটা সময় প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন আবাসিক হল, আধুনিক অডিটোরিয়াম, জিমনেশিয়াম এবং ‘শহিদ আবু সাঈদ গেট’, স্মৃতিস্তম্ভসহ বিভিন্ন স্থাপনা দ্রুত নির্মাণ করা হবে।
দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- বিষয় :
- আবু সাঈদ
- জুলাই শহীদ
- দিবস