ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

খানাখন্দে ভরা সড়কে বৃষ্টি নামলেই ভোগান্তি

খানাখন্দে ভরা সড়কে বৃষ্টি নামলেই ভোগান্তি
×

শ্রীপুরের সলিংমোড় থেকে গাজীপুর বাজার পর্যন্ত সড়কের প্রায় পুরোটাই এ রকম বেহাল। সম্প্রতি তোলা সমকাল

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬ | ০৯:০৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের সলিংমোড় থেকে গাজীপুর বাজার পর্যন্ত ৬ কিলোমিটারের মতো সড়ক এখন হাজারো মানুষের কাছে দুর্ভোগের আরেক নাম। বৃষ্টি হলেই পথটির কোথাও কাদা, কোথাও হাঁটুসমান পানি, কোথাও আবার পানির নিচে লুকিয়ে থাকে গভীর গর্ত।
দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সড়কটির বুকজুড়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। বৃষ্টিতে সেই গর্তগুলো পানিতে ঢেকে যায়। ফলে গর্তগুলোর অস্তিত্ব বোঝার উপায় থাকে না। এতে প্রতিদিনই পণ্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী বিভিন্ন যানবাহন, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ইজিবাইক ও ভ্যান দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। কখনও আহত হচ্ছেন যাত্রী, কখনও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে যানবাহন। অথচ জীবন-জীবিকার তাগিদে হাজারো মানুষ এই পথ দিয়েই প্রতিদিন ছুটে চলেন।

শুধু শ্রীপুরের মানুষই নন, টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা, ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কাচিনা ইউনিয়নসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষের মাওনা চৌরাস্তায় যাতায়াতের অন্যতম ভরসা এই সড়ক। প্রতিদিন কর্মজীবী মানুষ, পোশাক কারখানার শ্রমিক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও রোগীবাহী যানবাহন এই পথ ব্যবহার করে।  
স্থানীয়রা বলছেন, সলিংমোড় থেকে উত্তর দিকের অংশে আরসিসি ঢালাই করা হলেও সেখানেও স্বস্তি মেলেনি। সামান্য বৃষ্টিতেই নতুন নির্মিত অংশে পানি জমে থাকে দিনের পর দিন। প্রয়োজনীয় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, সড়কের ঢাল ও উচ্চতার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা না করেই কাজ করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, পরিকল্পনার ঘাটতি এবং এলজিইডির তদারকির দুর্বলতার কারণেই সরকারি অর্থ ব্যয় করেও মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। ফলে নতুন নির্মাণও এখন প্রশ্নের মুখে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের শ্রীপুর উপজেলা অফিস সূত্র বলছে, ২০২৩ সালের গোড়ার দিকে দুই কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে এ রাস্তার আড়াই কিলোমিটার সংস্কার করা হয়। বাকি সাড়ে ৩ কিলোমিটার সড়ক থাকে সংস্কারের বাইরে। সলিংমোড় থেকে উত্তর দিকে ২১৮ মিটার অংশ আরসিসি ঢালাই করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১০০ মিটার সড়কে বৃষ্টি হলেই প্রায় হাঁটু সমান পানি জমে থাকে। স্থানীয়রা বলছেন, সেখানে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে কাজ করা হয়। তখনই এলাকার লোকজন প্রতিবাদ করেছিলেন। প্রতিবাদের মধ্যেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিরু অ্যান্ড ব্রাদার্স এন্টারপ্রাইজ তখন কাজ শেষ করে। সংস্কারের বছর পার হতে না হতেই খানাখন্দে ভরে যায় রাস্তাটি। এ বিষয়ে নিরু অ্যান্ড ব্রাদার্স এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও প্রতিষ্ঠানটির কাউকে পাওয়া যায়নি। ওই প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বই আর নেই বলে জানা গেছে।

আলম মিয়া নামের স্থানীয় একজন সবজি বিক্রেতা জানান, তিনি প্রতিদিন সকালে তাঁর জমিতে উৎপাদিত শাকসবজি এই রাস্তায় বাজারে নিয়ে যান। বেশির ভাগ সময়ই তাঁর ব্যবহৃত অটোরিকশা সড়কের ভাঙাচোরা অংশে আটকা পড়ে। কখনও কখনও উল্টো যায়। প্রতিদিনই পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে পুরো রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তি পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকে। আকবর আলী নামে এক অটোরিকশাচালক বলেন, প্রতিনিয়ত গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিনই গ্যারেজে যেতে হয়। আয় যা হয়, তার বড় অংশই চলে যায় মেরামতের পেছনে। অন্যদিকে, বাড়তি ভাড়া চাইলে যাত্রীদের ক্ষোভের মুখেও পড়তে হয়।
এই রাস্তার বড় ভাঙাচোরা অংশের আধা কিলোমিটার সামনেই ২ নম্বর চকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রধান শিক্ষক সালমা বেগম বলেন, বিদ্যালয়ের সামনের সড়কটি দীর্ঘদিন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে। বৃষ্টি হলেই কাদা ও পানিতে ছোট শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। প্রায়ই অটোরিকশা দুর্ঘটনায় পড়ে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক- সবাই প্রতদিন উৎকণ্ঠা নিয়ে এই পথ ব্যবহার করেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর গাজীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমদাদুল হক বলেন, জিওবি মেইনটেইন্যান্স প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ পাওয়া গেলে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। অধিদপ্তরের  শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদ বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ অংশ আরসিসি ঢালাইয়ের জন্য চলতি মাসে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

×