ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

দূষণে বিপন্ন তুলসীগঙ্গা তীরজুড়ে বর্জ্যের স্তূপ

দূষণে বিপন্ন তুলসীগঙ্গা তীরজুড়ে বর্জ্যের স্তূপ
×

তুলসীগঙ্গা নদীতে প্রতিদিন অবাধে ফেলা হচ্ছে বাজারের ময়লা-আবর্জনা সমকাল

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৩০

| প্রিন্ট সংস্করণ

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র দিয়ে প্রবাহিত তুলসীগঙ্গা নদীর একাংশ এখন বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। পৌর শহরের কলেজ কাঁচাবাজারসংলগ্ন ফুটসেতুর নিচে ও নদীর তীরে প্রতিদিন অবাধে ফেলা হচ্ছে বাজারের ময়লা-আবর্জনা। পচা সবজি, ডাবের খোসা, প্লাস্টিক, পলিথিন ও মাছ-মাংসের উচ্ছিষ্টে নদীর তীর এখন সয়লাব। চলতি বর্ষা মৌসুমে নদী কানায় কানায় পূর্ণ থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই এসব বর্জ্য সরাসরি পানিতে মিশে যাচ্ছে। ফলে পানি দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ও জলজ জীববৈচিত্র্যের হুমকি তীব্র আকার ধারণ করেছে।
সরেজমিন দেখা যায়, কলেজ কাঁচাবাজারের পাশে ফুটসেতুর পূর্ব পাড়ে তুলসীগঙ্গা নদীর তীরজুড়ে স্তূপ হয়ে আছে নানা ধরনের বর্জ্য। বর্ষার কারণে নদীর পানি পাড়ের কাছাকাছি চলে আসায় বৃষ্টির পানি ও স্রোতের তোড়ে বর্জ্যগুলো সরাসরি নদীতে ভেসে যাচ্ছে। অসংখ্য প্লাস্টিক, পলিথিন ও পচনশীল বর্জ্য পানির ওপর ভাসতে দেখা গেছে। এতে নদীর পানি যেমন দূষিত হচ্ছে, তেমনি চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র দুর্গন্ধ। এই পথ দিয়ে চলাচলকারী পথচারী, শিক্ষার্থী ও বাজারে আসা ক্রেতারা নাক চেপে যাতায়াত করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কাঁচাবাজারে কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে নদীর তীরকেই ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান বানিয়ে ফেলা হয়েছে। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় দিন দিন এই স্তূপ বড় হচ্ছে। পচনশীল বর্জ্য থেকে মশা, মাছি ও বিভিন্ন রোগজীবাণু ছড়ানোর কারণে আশপাশের বাসিন্দারা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।
নদীপাড়ের কেশবপুর মহল্লার বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার বলেন, এক সময় তুলসীগঙ্গার পানি ছিল স্বচ্ছ। মানুষ নানা কাজে এই পানি ব্যবহার করত। এখন দুর্গন্ধের কারণে নদীর পাড়ে দাঁড়ানো যায় না। বাজারের সব ময়লা এখানে ফেলা হচ্ছে। বৃষ্টি হলেই তা নদীতে মিশে পানি ও পরিবেশ ধ্বংস করছে।

নদী দূষণের বৈজ্ঞানিক ক্ষতি ব্যাখ্যা করে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ আন্দোলনের উদ্যোক্তা রতন মণ্ডল বলেন, নদীতে আবর্জনা, বিশেষ করে মুরগির বিষ্ঠা, পশু-পাখির রক্ত ও নাড়িভুঁড়ি ফেলার ফলে পানিতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও অণুজীব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। এর ফলে পানিবাহিত নানা রোগ ছড়ানোর পাশাপাশি পানির জৈবিক ও রাসায়নিক অক্সিজেনের চাহিদা মারাত্মক বৃদ্ধি পায়। জৈব দূষণের পরিমাণ যত বাড়ে, পানির গুণগত মান তত খারাপ হয়। কারণ অণুজীবরাই সব অক্সিজেন ব্যবহার করে ফেলে। মাছ বা অন্যান্য জলজ প্রাণী আর অক্সিজেন পায় না। অক্সিজেন সংকট ও মিথেন গ্যাস বৃদ্ধির কারণে মাছসহ অনেক জলজ প্রাণী এখন বিলুপ্তির পথে।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেন, নদী বা জলাশয়ে যে কোনো ধরনের বর্জ্য ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বর্ষা মৌসুমে এই দূষণ আরও দ্রুত ছড়ায়। দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে নদী দূষণ করলে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আক্কেলপুরের ইউএনও ও পৌরসভার প্রশাসক আশিক-উর রহমান বলেন, কলেজ কাঁচাবাজার এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যাটি আমাদের নজরে এসেছে। দ্রুত জমে থাকা ময়লা অপসারণ করা হবে। একটি স্থায়ী বর্জ্য ডাম্পিং প্লান্ট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। নির্ধারিত স্থান ছাড়া কেউ যাতে ময়লা না ফেলে, সে বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×