ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

যমুনা নদীর ভাঙনের মুখে সড়ক ৫০ গ্রাম প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা

যমুনা নদীর ভাঙনের মুখে সড়ক  ৫০ গ্রাম প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা
×

টাঙ্গাইল-তারাকান্দি সড়কের গোপালপুর উপজেলার নলিন বাজারের উত্তরে শাখারিয়া এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার তোলা ছবি সমকাল

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৪৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রমত্তা যমুনার থাবায় ভাঙনের মুখে পড়েছে টাঙ্গাইল-ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক সড়কের গোপালপুর উপজেলার শাখারিয়া অংশ। গত রোববার রাত থেকে শুরু হওয়া ভাঙনে গতকাল মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত সড়কটির একাংশ যমুনার পেটে চলে গেছে। ফলে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে ওই মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী, পণ্যবাহী ট্রাক ও জরুরি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সের চালকরা। বর্তমানে সব ধরনের যানবাহনকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে বিকল্প রাস্তায় চলাচল করতে হচ্ছে। এতে মূল্যবান সময় এবং দ্বিগুণ বেড়েছে যাতায়াত ও পরিবহন খরচ। সড়কের একাধিক অংশ নতুন করে ভাঙনের মুখে পড়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপারের বাসিন্দারা।

স্থানীয়রা জানান, সড়কটির শাখারিয়া অংশে গত রোববার রাতে ভাঙন দেখা দিলে তারা বাঁশ ও গাছ কেটে তীব্র স্রোত ঠেকানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালান। ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষের অভিযোগ, প্রতিবছর নদীভাঙন দেখা দিলে পানি উন্নয়ন বোর্ড তড়িঘড়ি করে জিও ব্যাগ ফেলে। কিন্তু এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। যমুনার ভাঙন থেকে সড়ক ও জনপদ রক্ষা করতে হলে জিও ব্যাগের পরিবর্তে অনতিবিলম্বে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) খবর পেয়ে ভাঙন রোধে কাজ শুরু করেছে। ভাঙনকবলিত অংশে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। যমুনার তীব্র স্রোতের কারণে কাজ 
করতে বেগ পেতে হচ্ছে। সড়কের পশ্চিমাংশে জিও ব্যাগের সঙ্গে মাটি ফেলে আলাদা বাঁধ তৈরির চেষ্টা করছেন তারা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ জানান, ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলতে ব্যস্ত শ্রমিকরা। তবে শ্রমিকদের সঙ্গে তারা মিলে রাতে নদীর প্রবল স্রোতের সঙ্গে লড়াই করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেছেন। তারা যা করেছেন, সেটা শুধু সাময়িক প্রতিরোধ। নদীতীর রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা না হলে জিও ব্যাগ কোনো কাজে আসবে না। প্রতিবছর বন্যায় এই সড়কটি ভাঙনের মুখে পড়ে। সড়কের কয়েকটি অংশে গত বর্ষায়ও একই অবস্থা হয়েছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হালিম তালুকদার বলেন, যমুনা নদী বেশ কয়েক দিন ধরেই আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। টাঙ্গাইল-তারাকান্দি সড়ক এই এলাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়কে যমুনার থাবা পড়লে গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তিনি জানান, সাবেক উপমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন 
করে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
নলিন বাজারের ব্যবসায়ী নুরই আলমের ভাষ্য, টাঙ্গাইল-তারাকান্দি সড়কের গোপালপুর উপজেলার নলিন বাজারের উত্তরে শাখারিয়া এলাকায় ব্লক বসানো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কয়েকটি অংশ বিলীন হয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ব্লক বিলীন হওয়ায় সড়কে ভাঙন শুরু হয়েছে। তাৎক্ষণিক পাউবোর শ্রমিকদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজন ভাঙন প্রতিরোধে গাছ-জিও ব্যাগ ফেলেন। তিনি জানান, এই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে গেলে মুহূর্তে গোপালপুর ও ভূঞাপুরের অন্তত ৫০টি গ্রামসহ বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হতে পারে। এতে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি এবং যোগাযোগ বিচ্ছন্ন হয়ে বিপর্যয় নেমে আসার শঙ্কা রয়েছে।
গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুরুল মোর্শেদ বলেন, টাঙ্গাইল-তারাকান্দি আঞ্চলিক সড়কের নিয়মিত খোঁজখবর 
রাখছেন তারা। গত দুই দিন সড়কটি পরিদর্শন করেছেন তিনি।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দীনের ভাষ্য, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন তিনি। জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের যেসব জায়গা সংস্কার করা দরকার সেগুলো সংস্কার করলেই সড়কটি নিরাপদ থাকবে। আগামী শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী সংস্কারের চেষ্টা করা হবে।
 

আরও পড়ুন

×