স্ত্রীকে হোটেলে নিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান স্বামী
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৩১
| প্রিন্ট সংস্করণ
গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তার আবাসিক হোটেলে নিয়ে স্ত্রীকে হত্যায় তাঁর স্বামী সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে গাজীপুর পিবিআই।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার জানান, নিহত শান্তা বেগমের স্বামী ও মামলার প্রধান আসামি সাইফুল ইসলামকে ঢাকার দক্ষিণখান থানার ফায়দাবাদ এলাকা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ সুপার বলেন, আদালতে হাজির করার পর সাইফুল ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সেই জবানবন্দি এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাপ্রবাহ স্পষ্ট হয়েছে।
নাটোর সদর উপজেলার চরলক্ষীকোল গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে শান্তা বেগম গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর আহমেদনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। একটি পোশাক কারখানার কর্মী দুই সন্তানের এই জননী গত মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৪৮ মিনিটে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে চান্দনা চৌরাস্তার একটি আবাসিক হোটেলের ৩০৭ নম্বর কক্ষে ওঠেন।
রাত প্রায় ১০টা ৪৮ মিনিটের দিকে হোটেল কর্তৃপক্ষের খবর পেয়ে বাসন থানা পুলিশ কক্ষে গিয়ে শান্তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। তাঁর গলা ও বুকে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে কক্ষে তখন সাইফুলকে পাওয়া যায়নি। পরে পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন টিম আঙুলের ছাপ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে। নিহতের বাবা শহিদুল ইসলাম অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
এরপর তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই। তদন্তে উঠে আসে, একই পোশাক কারখানায় কাজ করতে গিয়ে শান্তা ও সাইফুলের পরিচয় হয়। তিন মাসের সম্পর্কের পর তারা বিয়ে করেন। কিন্তু আগের সংসার, সন্তান এবং পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে অবিশ্বাস ও দাম্পত্য কলহ বাড়তে থাকে।
পিবিআই জানায়, ঘটনার দিন শান্তার ডাকে গাজীপুরে আসেন সাইফুল। হোটেল কক্ষে ওঠার পর পুরোনো বিরোধ নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে সাইফুল জানান, শান্তার সঙ্গে ধস্তাধস্তির পর তিনি ছুরি দিয়ে তাঁর গলা ও বুকে আঘাত করেন। শান্তা নিন্তেজ হয়ে পড়লে তাঁর মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র নিয়ে হোটেল থেকে পালিয়ে যান।
- বিষয় :
- হত্যা