ভূতুড়ে প্রতিষ্ঠানে টিআর বরাদ্দ টাকা ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের কলকাকলী বিদ্যাপীঠে দৃশ্যমান নয় টিআর প্রকল্পের কাজ। প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ সমকাল
ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৩৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় টিআর (টেস্ট রিলিফ) প্রকল্পের আওতায় এমন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিপরীতে বরাদ্দ আদায় করা হয়েছে যার কোনো অস্তিত্বই নেই। এমন ভূতুড়ে প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি বরাদ্দ দেখিয়ে টাকাও উত্তোলন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দুটি ভিন্ন ইউনিয়নে একই নামে পৃথক দুটি প্রকল্প দেখিয়ে দুই দফায় বরাদ্দ নেওয়া হলেও এর মাঝে একটি প্রতিষ্ঠানের বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই।
এদিকে সরকারি আর্থিক বিধি অনুযায়ী, টিআর প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়সীমা ৩০ জুনের মধ্যে শেষ না হলে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সেই বিধান অনুসরণ না করে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে উত্তোলিত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত না দিয়ে তা ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে রাখা হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, এই ঘটনা শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়; সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের টিআর দ্বিতীয় পর্যায়ের আওতায় পাইকুরাটি ইউনিয়নে কলকাকলী বিদ্যাপীঠে মাটি ভরাট ও উন্নয়ন নামক প্রকল্পের অনুকূলে এক লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই বরাদ্দের অর্থ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধান ও বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক বশির আহম্মদের নামে ছাড় দেওয়া হয়। গত ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পেরকাজ শেষ করার কথা ছিল। গত বুধবার দুপুরে ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, নামমাত্র কাজ করা হয়েছে। মাটি ভরাটের কোনো কাজই হয়নি।
এদিকে একই অর্থবছরে টিআর তৃতীয় পর্যায়ের আওতায় সেলবরষ ইউনিয়নের কলকাকলী বিদ্যাপীঠ উন্নয়ন নামক আরেকটি প্রকল্পে এক লাখ ২০ হাজার টাকার পৃথক বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়।
গত বুধবার স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সেলবরষ ইউনিয়নে কলকাকলী বিদ্যাপীঠ নামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীও এমন কোনো প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে জানেন না বলে দাবি করেছেন। অথচ এই (অস্তিত্বহীন) প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি বরাদ্দের অর্থও বশির আহম্মদকে পিআইসি সভাপতি করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ছাড় দেওয়া হয়েছে। পরে বশির আহম্মদ ওই অর্থ নিজের ব্যাংক হিসাবে (অ্যাকাউন্ট) সংরক্ষণ করেছেন।
সেলবরষ ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফরিদ খোকা বলেন, তাঁর ইউনিয়নের কলকাকলী বিদ্যাপীঠ নামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। একই কথা জানিয়ে সেলবরষ ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী বলেন, এমন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অবৈধভাবে উত্তোলিত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
ওই দুটি প্রকল্পের পিআইসি সভাপতি বশির আহম্মদ বলেন, স্থানীয় এমপির দোহাই দিয়ে পিআইও তাঁকে দুটি প্রকল্পের বিল জমা দিতে বলেন। নইলে একটির টাকা ফেরত চলে যাবে। তিনি বিষয়টি এমপিকে জানিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ দিয়ে কাজ করিয়েছেন এবং অন্যটি তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা আছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জাকির হোসেন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে স্থানীয় এমপি অবগত আছেন। একজনই (বশির) প্রকল্পের সভাপতি। ইউনিয়নের নাম ভুল হয়েছে। সময়সাপেক্ষ হওয়ায় এটি সংশোধন করার সুযোগই ছিল না। নইলে বরাদ্দ ফেরত যেত। ফেরত গেলে প্রতিষ্ঠান টাকা পেতো না। যে প্রকল্পগুলোর কাজ হয়নি সেগুলো ফেরত গেছে।
- বিষয় :
- টিআরপি