ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে পাঠদান

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে পাঠদান
×

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কোটখালী ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসায় ঝুঁকি নিয়েই পরীক্ষা দেন শিক্ষার্থীরা। ছবিটি ১৪ জুলাইয়ের সমকাল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চিকনিকান্দি ইউনিয়নের শত বছরের পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোটখালী ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার ভবনটি এখন জরাজীর্ণ ও মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ৪৪ বছর আগে নির্মিত একতলা এই ভবনটির ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে রড বের হয়ে গেছে। বর্ষায় ছাদ চুইয়ে পানি পড়ায় শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে ছাতা মাথায় দিয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা নিতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, সংকট নিরসনে নির্মাণাধীন চারতলা নতুন ভবনের কাজও চলছে ধীরগতিতে। চলতি বছরের ৩০ জুন কাজের মেয়াদ শেষ হলেও এখনও ২০-২৫ ভাগ কাজ বাকি। শিক্ষা প্রকৌশল 
অধিদপ্তর আগামী এক মাসের মধ্যে কাজ শেষের দাবি করলেও, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মতে নতুন ভবন চালু হতে ২০২৬ সাল গড়িয়ে যাবে।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, ১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রথম শ্রেণি থেকে ডিগ্রি পর্যন্ত সাড়ে পাঁচশ শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। ১৯৮১ সালে কুয়েত সরকারের অর্থায়নে ১৮ কক্ষবিশিষ্ট ভবনের কাজ শুরু হলেও একতলা নির্মাণের পরই প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়। উপযুক্ত সংস্কার না হওয়ায় পুরো ভবনটি এখন পাঠদানের অযোগ্য।
আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নাজমা বেগম, আসাদুল ইসলাম ও শামীম সাইদসহ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জানায়, অতিবৃষ্টির সময় ছাদ থেকে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। এমনকি অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার সময়ও রুম পরিবর্তন করে ও ছাতা ধরে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে শ্রেণিকক্ষে পলিথিন টাঙিয়ে শিক্ষকরা পাঠদান করাচ্ছেন, যা সার্বক্ষণিক আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সহকারী অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াহিয়াহ খান জানান, ভবন সংস্কারের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও এলজিইডিকে বারবার বলা হলেও পুরোনো ভবন হওয়ায় কেউ সংস্কারে আগ্রহ দেখায়নি। শিক্ষার্থীরা আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস করছে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. নজির আহমেদ খান বলেন, ‘ভবনটির ছাদ সংস্কারের জন্য যে বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছিল, ঠিকাদারের নিম্নমানের কাজের কারণে তা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।’
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুহা. মজিবুর রহমান জানান, জরাজীর্ণ ভবনে ক্লাস ও পরীক্ষা না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত নতুন ভবন হস্তান্তরের জন্য শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগকে অনুরোধ করা হয়েছে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুল কবির বলেন, ‘চারতলা নতুন ভবনের কাজ শেষ পর্যায়ে, আসবাব চলে এসেছে। আশা করা যাচ্ছে আগামী মাসের মধ্যেই এটি হস্তান্তর করা যাবে। পুরোনো ভবনটি এতটাই জরাজীর্ণ যে এটি সংস্কার করে কোনো লাভ নেই।’
 

আরও পড়ুন

×