ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভিডিও ভাইরাল

‘চোর’ অপবাদে বেধড়ক পিটুনিতে লুটিয়ে পড়েন নারী, তুলে আবার পিটুনি

‘চোর’ অপবাদে বেধড়ক পিটুনিতে লুটিয়ে পড়েন নারী, তুলে আবার পিটুনি
×

ভেদরগঞ্জ (শরীয়তপুর) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬ | ১৮:১০

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগ তুলে এক মধ্যবয়সী নারীকে বেধড়ক লাঠিপেটার অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সাবেক বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন মোল্লা ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।

ভুক্তভোগী নারীর নাম নারগিস বেগম। তিনি ছয়গাঁও এলাকার আবুল শেখের স্ত্রী এবং ছয় সন্তানের জননী। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ছয়গাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লার বাড়ি থেকে দুই লাখ টাকা ও চার ভরি স্বর্ণালংকার খোয়া যায়। এ ঘটনায় চুরির অভিযোগ তুলে গত বৃহস্পতিবার নারগিস বেগমকে ধরে নিয়ে যান আনোয়ার হোসেন মোল্লা ও তার সহযোগীরা। পরে তার দুই হাত আটকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি ওই নারীর দুই হাত ধরে রেখেছেন। এ সময় আরেক ব্যক্তি লাঠি দিয়ে তাকে পেটাচ্ছেন। মারধরের একপর্যায়ে ওই নারী চিৎকার করতে করতে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও তাকে আবার তুলে মারধর করা হয়।

ভুক্তভোগী নারগিস বেগম বলেন, ‘আমি চুরি করিনি। তারা আমাকে চোরের মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে। আমার বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে মারধর করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’

নারগিসের ছেলে গোলাম রাব্বি বলেন, ‘আমাদের পরিবারে কোনো অভাব নেই। আমার এক ভাই প্রবাসে থাকেন। আমার মা কোনো চুরি করেননি। তারপরও বিএনপি নেতা আনোয়ার মোল্লা ও তার লোকজন চুরির অপবাদ দিয়ে আমার মাকে মারধর করেছেন। আমার মা স্ট্রোকের রোগী। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি আছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার মা চুরি করলে তারা আইনের আশ্রয় নিতে পারতেন। কোনো প্রমাণ ছাড়া এভাবে কেন তাকে মারধর করা হলো, আমরা এর বিচার চাই।’

ভুক্তভোগীর মেয়ে মেহেরুন বলেন, ‘কয়েকজন মিলে মাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছে। আমার মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো উচিত ছিল। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ার হোসেন মোল্লার বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা ভিডিওটি দেখেছি। এ ধরনের ঘটনা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। কোনো ব্যক্তিকে তদন্ত ছাড়াই এভাবে নির্যাতন করার সুযোগ নেই। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।’

ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার বলেন, খবর পেয়ে আহত নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগের পর মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

আরও পড়ুন

×