ঢাকা সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রামুতে উচ্ছেদ অভিযানে বনকর্মীদের ওপর হামলা

রামুতে উচ্ছেদ অভিযানে বনকর্মীদের ওপর হামলা
×

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার পাঁচ বনকর্মী। ছবি-সমকাল

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬ | ১৬:৪১

কক্সবাজারের রামুতে সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ পাঁচ বনকর্মী। তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সমিতিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, রামুর পানেরছড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা শরীফুল আলম, বনরক্ষী হুমায়ুন কবির, বাগান মালি সাইদুল ইসলাম, কর্মচারী মো. সাজিদ এবং ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম (ইআরটি) সদস্য মিজানুর রহমান।

আহত রেঞ্জ কর্মকর্তা শরীফুল আলম বলেন, সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে পানের বরজ নির্মাণের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন, নাজির হোসেন ও সাহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমিসহ পাঁচজন আহত হন। 

তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে ঝিলংজা বিট কর্মকর্তা কামরুজ্জামান শোভন বলেন, আহতদের মধ্যে ৩ জনের জখম গুরুতর। তাদের মধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তার মাথায় ৯টি সেলাই করা হয়েছে। অন্য দুইজনের ৩টি করে সেলাই দেয়া হয়েছে। বাকিদের শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম আছে।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, আমি ইতোমধ্যে ঘটনাটি সম্পর্কে অবহিত হয়েছি। এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত বন বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে যত বড়ই ক্ষমতাধর ব্যক্তি হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে দায়িত্ব পালনরত বনকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ফরেস্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ)। সংগঠনটির এক বিবৃতিতে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত বনকর্মীদের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

×