পুলিশ পরিচয়ে ঢুকে ইউপি সচিবের বাড়িতে ডাকাতি
কক্সবাজার প্রতিনিধি ও পেকুয়া সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২১
| প্রিন্ট সংস্করণ
কক্সবাজারের পেকুয়ায় পুলিশ পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে বাড়ির লোকজনকে জিম্মি করে লুটপাট চালিয়েছে ডাকাতেরা। গত রোববার রাতে উপজেলার আব্দুল হামিদ সিকদারপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, ডাকাতেরা ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ আট লাখ ৪০ হাজার টাকা ও তিনটি মোবাইল ফোন লুটে নিয়েছে।
জানা গেছে, ওই বাড়ির বাসিন্দা রেজাউল করিম জেলার মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিব। গত রোববার রাত একটার দিকে গাড়ির শব্দ শুনে বাসা থেকে বের হন তিনি ও কয়েকজন প্রতিবেশী। এ সময় একটি সাদা নোহা গাড়ি দ্রুতগতিতে তাদের পাশ দিয়ে গিয়ে সামনে একটি কবরস্থানের কাছে থামে। রেজাউল করিমের ভাষ্য, ‘কিছুক্ষণ পর গাড়ি থেকে সিভিল পোশাকে ৬ জন ব্যক্তি নেমে আমাদের আলাদা আলাদা জায়গায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তারা জানতে চায়, এত রাতে আমরা সেখানে কেন অবস্থান করছি, আমাদের পেশা কী? এ ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করে। এ সময় তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেয়।’
অন্য তিনজনকে রেজাউলের কাছ থেকে দূরে নিয়ে গিয়ে হাত, পা ও মুখ বেঁধে ফেলে দুর্বৃত্তরা। তারা তিনজনের মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়। পরে আনুমানিক রাত তিনটার দিকে রেজাউলকে তারা বলে, ‘চলো, তোমার বাসায় যাব।’ তাদের পুলিশ সদস্য মনে করে তিনি বাড়িতে নিয়ে যান।
বাড়ির প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই দুর্বৃত্তরা রেজাউলের ঘাড়ে বন্দুক ঠেকিয়ে জিম্মি করে। তাদের সবার হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা পরিবারের নারী ও শিশুদেরও জিম্মি করে ফেলে। প্রথমে তারা আমার প্রবাসী বড় ভাই জমির আলমের কক্ষে প্রবেশ করে। সেখানে তাঁর স্ত্রীকে অস্ত্রের আঘাত করে পরিহিত সব স্বর্ণালংকার জোরপূর্বক খুলে নেয়। পরে আলমারির তালা ভেঙে প্রায় সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা লুট করে।’
এরপর তিনজন ডাকাত রেজাউলের কক্ষে ঢুকে তাঁর স্ত্রীর গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে আলমারির তালা ভেঙে ফেলে। সেখান থেকে প্রায় সাড়ে ৮ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ পাঁচ লাখ ৯০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। তিনি কথা বলতে চাইলে একজন গলা চেপে ধরে অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। যাওয়ার সময় তারা সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে যায় ও বাড়ির প্রধান দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয়।
রেজাউলের স্ত্রী তাসফিয়া সুলতানা কাজল বলেন, ‘তারা আমার স্বামীর মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করলে আমি খুব ভয় পেয়ে যাই। এরপর তারা আমার কক্ষে ঢুকে আলমারির চাবি খুঁজতে থাকে। আলমারির তালা ভেঙে প্রায় সাড়ে ৮ ভরি স্বর্ণালংকার এবং আমার স্বামীর জমানো নগদ পাঁচ লাখ ৯০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।’
পেকুয়া থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনার সংবাদ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। গুরুত্ব দিয়ে এ ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
- বিষয় :
- ডাকাতি