ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ
×

প্রতীকী ছবি

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ | ২২:৫০

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় স্বামীকে বেঁধে রেখে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় দুই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে।

গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন– রাব্বি, হযরত আলী খন্দকার ও ইমন খন্দকার। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ১২টার দিকে ভুক্তভোগীর স্বামীকে মোবাইল ফোনে কৌশলে তাঁর বাড়ির পাশে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর রাব্বি, হযরত আলী, ইমনসহ কয়েকজন তাঁকে বেঁধে ফেলে। পরে তাঁর মোবাইল ফোন ব্যবহার করে স্ত্রীকে টাকা নিয়ে ঘটনাস্থলে আসতে বলে তারা। স্বামীর বিপদের কথা শুনে ওই নারী ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এর পর অভিযুক্তরা তাঁকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে।

এক পর্যায়ে ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে নড়িয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

ভুক্তভোগী বলেন, ‘সোমবার রাত ১০টার দিকে স্বামী মোবাইল ফোনে কল করে একজনের সঙ্গে বাইরে যেতে বলেন। স্বামীর কথা শুনে ওই ব্যক্তির সঙ্গে বের হই। পরে আমাকে এলাকার একটি নির্জন বাগানে নেওয়া হয়। সেখানে গিয়ে দেখি আমার স্বামীকে বেঁধে রাখা হয়েছে। তাঁর গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে রেখেছিল কয়েকজন। এ অবস্থায় আমার স্বামীর সামনেই হযরতসহ তিনজন আমাকে ধর্ষণ করে।’

নড়িয়া থানার ওসি বাহার মিয়া জানান, এ ঘটনায় ৯ জনের বিরুদ্ধে আজ মঙ্গলবার থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী। অভিযোগ অনুযায়ী ঘটনাস্থলে থাকা চারজনের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ধর্ষণের শিকার সাত বছরের শিশু
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবারের এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা। মঙ্গলবার নাসিরনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্তের নাম আহাম্মদ আলী। তিনি এলাকায় ইউটিউবার হিসেবে পরিচতি। ধর্ষণের বিষয়টি মঙ্গলবার বিকেলে জানাজানি হলে উত্তেজিত জনতা আহাম্মদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এর পর থেকে আহাম্মদ ও তার পরিবারের লোকজন পলাতক।

শিশু ধর্ষণের অভিযোগে দোকানি গ্রেপ্তার
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক মুদি দোকানিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে মঙ্গলবার এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।

নিকলী থানার ওসি মাহবুবুর রহমান জানান, গত সোমবার বিকেলে ভুক্তভোগী শিশু এলাকার মুদি ব্যবসায়ী মুরাদের দোকানে যায়। এ সময় শিশুটিকে দোকানের পেছনে নিয়ে ধর্ষণ করে সে। সোমবার মেয়েটির নানি বাদী হয়ে মুরাদের নামে নিকলী থানায় মামলা করেন। পুলিশ ওই দিনই মুরাদকে এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। 

সিদ্ধিরগঞ্জ নারীকে ধর্ষণ
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে সাগর আহম্মেদ (২৮) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সাগরের সঙ্গে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করার সুবাদে বাদীর পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে বিয়ের আশ্বাসে তাঁর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন ওই যুবক। গত ২৩ জুন রাত ৮টার দিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বাদীকে সিদ্ধিরগঞ্জের মুক্তিনগর নয়াআটি এলাকায় ভাড়া বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করেন সাগর। 

বাদীর অভিযোগ, ঘটনার পর অভিযুক্ত বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকেন। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তিনি থানায় অভিযোগ করেন বলে জানান। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি এমদাদুল হক বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রায় দুই মাস পর অভিযুক্ত হযরত আলীকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশে খবর দেওয়া ও সালিশে রাজি না হওয়ায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবাকে পিটিয়ে জখম করেছে আসামিপক্ষ। মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুন সাত বছরের শিশুটিকে ফুচকা খাওয়ানোর কথা বলে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় হযরত আলী। এ ঘটনায় মামলা হলেও পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করছিল না বলে অভিযোগ স্বজনের। আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের গড়িমসি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমেও তীব্র সমালোচনা হয়।

অবশেষে মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাটি আপসের জন্য সালিশ বৈঠক বসায় আসামিপক্ষ। সেখানে ভুক্তভোগী পরিবারকে ডেকে এনে জোরপূর্বক খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা ও এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে হযরত আলীকে গ্রেপ্তার করে।
(সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য)

আরও পড়ুন

×