সুনাবিপ্রবি
বিদায়ী ভিসির নানা অনিয়ম, তদন্তের দাবি
ছবি- সংগৃহীত
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬ | ০২:০৪
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুনাবিপ্রবি) উপাচার্য (ভিসি) পদে রদবদল হয়েছে। বিদায়ী ভিসি অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হককে অব্যাহতির পর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেন। আজ বুধবার নতুন ভিসির ক্যাম্পাসে এসে দায়িত্ব গ্রহণের কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র।
এদিকে বিদায়ী ভিসি অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি, আর্থিক অনিয়ম ও একক ক্ষমতা চর্চার তীব্র অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও শিক্ষকরা তাঁর সময়ের যাবতীয় কর্মকাণ্ড এবং আর্থিক লেনদেনের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য নুরুল ইসলাম সাজু বলেন, বিদায়ী ভিসি নিজ ক্ষমতা ও পদ টিকিয়ে রাখতে মাসে বহুবার রাজধানীতে লবিংয়ের জন্য যেতেন এবং প্রতিবারই ২৯ থেকে ৩৫ হাজার টাকার টিএ/ডিএ বিল উপস্থাপন করতেন। তিনি আর্থিক ক্ষমতা নিজের হাতে রেখে নানাবিধ অনিয়ম করেছেন। জেলাবাসীর স্বপ্নের এই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে তিনি অনেক পিছিয়ে দিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আড়াই বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে আছে। নিয়মবহির্ভূত শর্ত জুড়ে দিয়ে বারবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পরিবর্তন করায় জটিলতা দেখা দেয়।
২০২৫ সালের মে মাসে সচেতন সুনামগঞ্জবাসীর পক্ষে ডিন ও সচিব বরাবর দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০তম গ্রেডের কর্মচারীর ক্ষেত্রেও সিজিপিএ ৩.০০ চাওয়া, প্রাক-অভিজ্ঞতা এবং বয়সসীমার ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক শর্ত আরোপ করা হয়েছিল। পরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে শর্ত শিথিল করে নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি। শিক্ষকদের একটি অংশের দাবি, পছন্দের প্রার্থীকে সুবিধা দিতেই বিজ্ঞপ্তির শর্ত বারবার পরিবর্তন করা হতো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, বিদায়ী ভিসি সিনিয়র শিক্ষকদের বাদ দিয়ে তুলনামূলক জুনিয়র ও অনুগতদের নিয়ে কমিটি গঠন করে একক সিদ্ধান্তে কাজ পরিচালনা করতেন।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদায়ী ভিসি অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক। তিনি জানান, অব্যাহতির নির্দেশ পাওয়ার পর তিনি আবার তাঁর পুরোনো কর্মস্থল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন। ঢাকায় প্রতিবার যাওয়ার নির্দিষ্ট দাপ্তরিক কারণ ছিল। জনবল সংকটের কারণে বাধ্য হয়েই একাধিক পদের দায়িত্ব সামলাতে হয়েছে তাঁকে।
- বিষয় :
- সুনামগঞ্জ
- বিশ্ববিদ্যালয়
- ভিসি