শৈলকুপায় পাটের আকস্মিক দরপতনে চাষিদের ক্ষোভ
কাঙ্ক্ষিত দামে পাট বিক্রি করতে না পেরে হতাশ এক চাষি। গতকাল মঙ্গলবার শৈলকুপা পাট বাজার থেকে তোলা ছবি সমকাল
শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২০
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঝিনাইদহের শৈলকুপা পাট বাজারে এক হাটের ব্যবধানে দামের ব্যাপক দরপতন দেখা দিছে। এ নিয়ে চাষিদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
গত শনিবারের হাটে প্রতি মণ পাট চার হাজার থেকে চার হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়। দুই দিনের ব্যবধানে গতকাল মঙ্গলবার প্রতি মণ পাট তিন হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
চাষিদের অভিযোগ, গত সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শৈলকুপার বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সিদ্ধান্ত নেন কৃষকদের থেকে পাট ক্রয়ে ওজনে ৪০ কেজিতেই মণ নিতে হবে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পাটের দাম কমিয়ে পাট কিনছেন। অপরদিকে ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, বিভিন্ন পাটকল দাম কমিয়ে পাট কেনার কথা জানিয়েছেন। এ ছাড়া বাজারে আমদানি বেশি হওয়ায়ও পাটের দরপতন হয়েছে।
এদিকে জানাজানি হলে বাজার মনিটরিংয়ে এসে ওজনে কম ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড এবং একজনকে কারাদণ্ড দেন ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান।
শৈলকুপা বাজারে পাট বিক্রি করতে আসা খড়িবাড়িয়া গ্রামের প্রজা বিশ্বাস বলেন, পাটচাষিরা খুবই দুরবস্থার মধ্যে আছে। উপজেলা প্রশাসন সিদ্ধান্ত দেওয়ার পরও পাট ৪১-৪২ কেজিতে মণ হিসাবে ক্রয় করছে ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া গত হাটে যে পাট চার হাজার ২০০ টাকায় প্রতি মণ বিক্রি হয়েছে, সেই পাট দুই দিনের ব্যবধানে তিন হাজার ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, একজন কৃষি শ্রমিকের প্রতিদিনের মজুরি ১২০০ টাকা। মাঠ থেকে বিক্রির উপযোগী হওয়া পর্যন্ত এক মণ পাটে খরচ হচ্ছে তিন হাজারের ওপরে। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট পাটের দাম কমিয়ে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
অপর পাটচাষি দোহারো গ্রামের নায়েব আলী বলেন, সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত দেন, কোনো প্রকার ওজনে বেশি নেওয়া যাবে না। এর ফলে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পাটের দাম কমিয়ে দিয়েছে। শ্রমিকের মজুরি পরিশোধে কম দামেই পাট বিক্রি না করে উপায় নেই চাষিদের।
শৈলকুপা বাজারের পাট ব্যবসায়ী নজির শেখ চাষিদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চাষিদের পাট শুকিয়ে যাওয়ায় বাজারে আমদানি বেড়েছে। ফলে প্রতি মণে দামও ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা কম। তিনি দাবি করেন, ব্যবসায়ীরা ডিজিটাল স্কেলে মেপে পাট কিনছেন এবং ওজনে বেশি নিচ্ছেন না।
পাটের অপর ব্যবসায়ী শিকদার জিল্লুর রহমান বলেন, প্রতিটি পাট মিলেই ৫০ কেজিতে তাদের এক কেজি পরিমাণ ছেড়ে দিতে হয়। দু-একটি মিলে ওজনে আরও বেশি ছাড় দিতে হয়। বাজারে পাটের আমদানি বেশি হওয়ায় বর্তমানে দাম কিছুটা কম। পাট বাজারে কোনো সিন্ডিকেট নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
শৈলকুপা পাট বাজারের ইজারাদার ও পাট ব্যবসায়ী সামছুল আলম বলেন, মোকামে (আড়ত) পাটের দাম কম হওয়ায় পাটের খানিকটা দরপতন হয়েছে। তা ছাড়া অন্যকিছু না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইইউএনও) মাহফুজুর রহমান বলেন, পাটের হঠাৎ দরপতনের কথা শুনেই তিনি তাৎক্ষণিক বাজার মনিটরিংয়ে যান। এ সময় চাষিদের সঙ্গে কথা বলে ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সুবল সাহা
নামে এক ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার ও সামছুল আলম নামে অপর ব্যবসায়ীকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের সংগঠিত করে সরকারি কাজে বাধার অভিযোগে আলমগীর হোসেন নামে একজনকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
- বিষয় :
- পাট