ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সব খাল দখলমুক্ত চেয়ে তরুণদের আন্দোলন

সব খাল দখলমুক্ত চেয়ে তরুণদের আন্দোলন
×

বাগেরহাটের সব প্রবহমান খাল জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের সড়কে তরুণদের অবস্থান কর্মসূচি সমকাল

বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৩৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের সড়ক। ফুট ওভারব্রিজের ঠিক নিচে তিন দিন ধরে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বসে থাকে একদল তরুণ। তাদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড। তাতে লেখা– দখলমুক্ত খাল চাই, জনগণের অধিকার ফেরত চাই। কখনও কখনও তাদের স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে রাজপথ।
গত রোববার অল্প কয়েকজন সড়কের পাশে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করলেও ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এই সংখ্যা। পরের দুদিনে সামাজিক এ আন্দোলনে যোগ দেন অসংখ্যা মানুষ। বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালীদের দখলে থাকা সরকারি খালের তালিকা ব্যানারে লিখে রাখা হয়, সেসব খাল দখলমুক্তের দাবিতে তাতে গণস্বাক্ষর করেন স্থানীয়রা। 
গতকাল মঙ্গলবার স্বেচ্ছাসেবকদের এই দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে অবস্থান কর্মসূচিতে বসেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল হক রাহাদও। একই সঙ্গে এলাকাবাসী, কৃষক, পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন। 

পরে জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন উপস্থিত হয়ে তরুণদের দাবি শোনেন ও ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, জেলার সাতফুলের খাল, ইমামবাড়ী খাল, খুন্তাকাটা খাল, মান্দারতলা খাল, রাম বাবুর খাল, বাদুখালীর খাল, পদ্মবিল-আমতলা খাল এবং হোজির নদীসহ বিভিন্ন সরকারি খাল দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে রয়েছে। এসব খালে বাঁধ ও পাটা দিয়ে মাছ চাষের কারণে স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি, কৃষি কাজে পানির সংকট, নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক অ্যাক্টিভিস্টা বাগেরহাটের প্রতিনিধি শেখ ইমরান বলেন, বাগেরহাটের সব প্রবহমান খাল জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একসময় এসব খাল থেকে মাছ ধরে বহু পরিবার জীবিকা নির্বাহ করত। এখন প্রভাবশালীরা বাঁধ ও পাটা দিয়ে পানি নিয়ন্ত্রণ করে মাছ চাষ করছে। কৃষকের প্রয়োজনের সময় পানি আটকে রাখা হয়, আবার প্রয়োজন না থাকলে ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ভয়ে দখলদারদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারছেন না।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া মাহফুজ মাঝি বলেন, শুধু বাগেরহাট সদর নয়, প্রতিটি উপজেলায় একই চিত্র। ইয়াসিন খাল, ঝনঝনিয়ার খালসহ বিভিন্ন সরকারি খাল প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে। যেখানে সরকার খাল খনন ও উন্মুক্ত করে দিচ্ছে, সেখানে বাগেরহাটে বিপরীত চিত্র। দখলদাররা কি সরকারের চেয়েও বেশি শক্তিশালী– প্রশ্ন করেন তিনি। 

পশ্চিমডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা শেখ মারুফ বলেন, মান্দারতলা খালসহ আমাদের এলাকার অধিকাংশ খাল দীর্ঘদিন ধরে দখলে রয়েছে। খালগুলো উন্মুক্ত না থাকায় চিংড়ি চাষ ও কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। আমরা বহুবার মানববন্ধন, আবেদন ও স্মারকলিপি দিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। 
স্থানীয় বাসিন্দা মোশারেফ বলেন, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সময়ে সরকারি খাল দখল করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ এসবের প্রতিবাদ করতে পারে না। আমরা চাই সব সরকারি খাল দখলমুক্ত হোক এবং জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, সরকারি খাল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দখলে থাকার সুযোগ নেই। খাল দখলমুক্ত করার দাবির সঙ্গে প্রশাসন সম্পূর্ণ একমত। তিনি আগামী তিন মাসের মধ্যে জেলার সরকারি খালগুলো পর্যায়ক্রমে অবমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। 
বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, খাল দখলের কারণে কৃষি, পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে জেলার সব সরকারি খাল পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×