প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের জেরে স্বামীকে হত্যায় দ্বিতীয় স্ত্রীর যাবজ্জীবন
আফরোজা শেখ ইতি
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬ | ১৭:৫৭
প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে যোগাযোাগের জেরে ময়মনসিংহ নগরীতে শফিকুল ইসলাম শপু নামে এক ব্যক্তিকে শ্বাসরোধে হত্যা মামলায় দ্বিতীয় স্ত্রী আফরোজা শেখ ইতিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় নিহত শপুর শ্যালককে খালাস দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহের বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, শফিকুল ইসলাম শপু প্রথম স্ত্রী মাহমুদা আক্তার ঝুমু ও সন্তানকে নিয়ে নগরীর বাঁশবাড়ী কলোনিতে মায়ের সঙ্গে বসবাস করতেন। পরবর্তীতে নগরীর আকুয়া হাবুন বেপারী এলাকার বাসিন্দা আফরোজা শেখ ইতির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে শপু তার প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখায় তা মেনে নিতে পারেননি দ্বিতীয় স্ত্রী ইতি। এ নিয়ে তাদের দাম্পত্য জীবনে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ১০ জুন সন্ধ্যায় নিজ বাসায় স্বামী শপুকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করেন ইতি। হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে মরদেহটি বাসার সামনের এক পচা পুকুরে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। ঘটনার তিন দিন পর ১৩ জুন স্থানীয়রা পুকুরে ভাসমান একটি হাত দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
হত্যাকাণ্ডের দিনই নিহতের মা নুরুন্নাহার বাদী হয়ে ইতি ও তার ভাই দ্বীন ইসলামকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
আদালত পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘ শুনানি তদন্ত প্রতিবেদন ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালতের কাছে আসামি ইতির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন। অপর আসামি দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়।