খুবিতে অচলাবস্থা এখনও কাটেনি, জরুরি সিন্ডিকেট সভা আজ
ফাইল ছবি
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ | ১৫:৫৭
শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীদের যৌন হয়রানি এবং বিজয় ’২৪ হলের নারী ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনের কারণে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) একাডেমিক কার্যক্রম এখনো স্বাভাবিক হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এস. এম. মাহবুবুর রহমান বলেন, চলমান পরিস্থিতি নিয়ে সিন্ডিকেট সভায় আলোচনা হবে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গত ২২ জুলাই রাতে বিজয় ’২৪ হলের নারী ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন রেখে ভিডিও ধারণের সময় ক্যান্টিনকর্মী ইমাম হাসানকে হাতেনাতে আটক করেন শিক্ষার্থীরা। ঘটনার পরদিন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন। পরে প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠকের পর প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনের তালা খুলে দেওয়া হলেও তিন দফা দাবি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে- ভিডিও ধারণের অভিযোগে অভিযুক্ত ক্যান্টিনকর্মী ইমাম হাসানের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট বডিকে জবাবদিহির আওতায় আনা; যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রুবেল আনছার ও অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে স্থায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ; এবং সম্প্রতি গঠিত ‘স্পন্দন-২৪’ ক্লাবের নিবন্ধন বাতিল।
আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতোমধ্যে কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্ত ক্যান্টিনকর্মী ইমাম হাসান ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে হরিণটানা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন, সংশ্লিষ্ট ক্যান্টিনের বরাদ্দ বাতিল, হলের ভেতরে কর্মচারীদের মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ এবং অপরাজিতা ও বিজয় ’২৪ ছাত্রী হলে ভবিষ্যতে পুরুষ কর্মী নিয়োগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্যান্টিন পরিচালনায় নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কথাও জানিয়েছে প্রশাসন।
এদিকে, যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত অধ্যাপক রুবেল আনছারের বিষয়ে রিভিউ আবেদন করা হলে পুনঃতদন্তের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। অন্যদিকে অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনও আজকের সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. সালাউদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোকে গুরুত্ব দিয়েই প্রশাসন কাজ করছে। তবে ভিডিও ধারণের ঘটনায় বিচারিক প্রক্রিয়া আদালত ও পুলিশ প্রশাসনের আওতাধীন হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় সেখানে সরাসরি সিদ্ধান্ত দিতে পারে না।
তিনি বলেন, অভিযোগকারী পক্ষ পুনঃতদন্তের আবেদন করলে রুবেল আনছারের বিষয়ে নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং নতুন সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই করে তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নেবে। একইভাবে অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদনও আজ সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করা হবে। স্পন্দন সংগঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন না এলেও দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। দীর্ঘদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শিক্ষার্থীরাই। তাই চলমান আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রেখে দ্রুত একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি।
তবে প্রশাসনের আশ্বাসে এখনই আন্দোলন প্রত্যাহারের পক্ষে নন শিক্ষার্থীরা। চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরিচালিত ‘টু টু’ ফেসবুক পেজে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’-এর ব্যানারে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তিন দফা দাবি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি চলবে।
- বিষয় :
- শিক্ষক
- খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়