দেড় বছর কমিটি ছাড়াই চলছে লালপুর উপজেলা বিএনপির কার্যক্রম
লোগো
মো. আশিকুর রহমান, লালপুর (নাটোর)
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ | ১৮:২২ | আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২৬ | ১৮:২৫
দেড় বছর ধরে কমিটি নেই নাটোরের লালপুর উপজেলা বিএনপির। কমিটি ছাড়াই চলছে উপজেলা বিএনপির কার্যক্রম। দীর্ঘদিন কোনো কমিটি না থাকায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। ১০টি ইউনিয়ন একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত লালপুর উপজেলা। বর্তমানে কমিটি না থাকায় উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়নে কোনো নেতার পদ নেই। সবাই এখন সাবেক। এর মধ্যে আগামী অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। তবে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হলে নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন দলটির জেলা ও উপজেলা ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
তথ্য বলছে, ২০১৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আলহাজ নাসির উদ্দিন মোল্লাকে সভাপতি ও হারুনার রশিদ পাপ্পুকে সাধারণ সম্পাদক করে ১১১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। এরপর আর উপজেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। ২০২০ সালের ২৩ মার্চে এই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। প্রায় এক বছর পরে ২০২১ সালের ২৩ অক্টোবর সাবেক প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত ফজলুর রহমান পটলের ছেলে ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজনকে আহ্বায়ক ও হারুনার রশিদ পাপ্পুকে সদস্য সচিব করে গঠিত হয় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি। ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি একযোগে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপির সব কমিটি। ফলে এক বছর ৫ মাস যাবত কমিটি ছাড়াই চলছে উপজেলা বিএনপির কার্যক্রম।
চংধুপইল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুলহাস হোসেন বলেন, কমিটি না থাকায় বর্তমানে সবাই নেতা। এতে দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। তবে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এগুলো সমন্বয় করে চালাচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে কমিটি হবে এমন আশ্বাসও দিয়েছে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল।
দুয়ারিয়া বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজি জিন্না বলেন, কমিটি না থাকায় এখন সবাই নেতা। দুঃসময়ে যারা ছিলো না এখন তারাই বড় নেতা।
এবি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মতি মেম্বার আগামী কমিটিতে সভাপতি পদপ্রত্যাশী। তার মতে, দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় দল সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। কমিটিটা দ্রুত হওয়া প্রয়োজন। তা না হলে আগামী স্থানীয় নির্বাচনের প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন তিনি।
গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম মোলাম বলেন, কমিটি না থাকায় নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়েছে। তারপরেও নেতাকর্মীরা সাবেক নেতাদের নির্দেশেই বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে খুব দ্রুতই কমিটি করা হবে। বর্তমান সমাজকল্যান প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল আমাদের কমিটি করার জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন।
লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ পাপ্পু বলেন, সংগঠন না থাকলে দল থাকে না। দীর্ঘসময় উপজেলা বিএনপির কমিটি না থাকায় নতুন নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না। সংসদ নির্বাচনের পরে নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছে। কারও সঙ্গে কোনো সমন্বয় নেই। যে যার মতো চলছে। এতে দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। নেতা না থাকায় কর্মীরা সংগঠনবিমুখ হচ্ছে। ভোটের আগে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে স্বতঃস্ফূর্ত অবস্থা ছিলো তা বিলীন হয়ে গেছে। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে নতুন কমিটি না গঠন করলে নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়গুলো নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলে নজরে আছে। তিনি দলের শৃঙ্খলা ফেরাতে দ্রুত সুন্দর কমিটি উপহার দিবেন বলে আশা করেন এই নেতা।
নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান বাবুল চৌধুরী সমকালকে বলেন, দেড় বছর হয়ে গেছে নাটোর জেলার কোনো কমিটি নেই। একটি রাজনৈতিক দল বা সংগঠন পরিচালনা করার জন্য কমিটি অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে কমিটি না থাকায় দলীয় ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড পালনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা মনে করি, দ্রুত উপজেলা কমিটিগুলো গঠন করে একটি নির্বাচনের মাধ্যমে জেলা কমিটি গঠন করা হবে।
দীর্ঘদিন যাবত কমিটি হচ্ছে না কেন—জানতে চাইলে নাটোর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে উপজেলা পর্যায়ে সব কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। নির্বাচন হয়েছে, দল এখন সরকারে গেছে। আমরা এখন দ্রুত সব কমিটি গঠন করবো।
- বিষয় :
- নাটোর
- লালপুর
- বিএনপি
- কমিটি ঘোষণা