ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২২ লাখ টাকার ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স ৩ বছর পরিত্যক্ত

২২ লাখ টাকার ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স ৩ বছর পরিত্যক্ত
×

রামগতির মানুষের চিকিৎসাসেবায় বরাদ্দ ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সটি তিন বছর ধরে পড়ে আছে সমকাল

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৩০

| প্রিন্ট সংস্করণ

উপকূলীয় মেঘনা নদীবেষ্টিত লক্ষ্মীপুরের দুর্গম চরাঞ্চলের প্রসূতি মা ও গুরুতর অসুস্থ রোগীর জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে কেনা হয়েছিল একটি ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স। সুফল পাওয়া দূরের কথা, চালক ও পরিচালনা ব্যয়সহ প্রায় অর্ধকোটি টাকা খরচের পর গত তিন বছর ধরে এটি খালের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। অব্যবস্থাপনা, তদারকির অভাব এবং রাজনৈতিক অপব্যবহারের কারণে সরকারি এই চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাটি এখন চরম দুর্ভোগ ও সরকারি অর্থ অপচয়ের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

উচ্চ চরাঞ্চল রামগতির চর আবদুল্লাহসহ আশপাশের বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মানুষের নদীপথে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ২০২২ সালের অক্টোবরে ‘স্বপ্নযাত্রা’ প্রকল্পের অধীনে সাবেক জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ অ্যাম্বুলেন্সটি উদ্বোধন করেন। তৎকালীন জেলা প্রশাসক এই প্রশংসনীয় উদ্যোগের জন্য বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদকও পান। উদ্বোধনের কিছু দিন পরই সেবা বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও অধিবাসীদের অভিযোগ, অ্যাম্বুলেন্সটি সাধারণ রোগীর সেবায় না লাগলেও সাবেক সরকারের জনপ্রতিনিধি ও ইউপি চেয়ারম্যানরা ব্যক্তিগত রাজনৈতিক কর্মসূচি ও যাত্রী বহনে এটি ব্যবহার করেছেন। ২০২৩ সালের ৩ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুর-২ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী কাজে দক্ষিণ চরবংশী ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালেহ মো. মিন্টু ফরায়েজী স্বপ্নযাত্রা অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করেন। একই বছর ১৮ আগস্ট কমলনগরের চরকাদিরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খালেদ সাইফুল্লাহ উত্তর চরবংশী খাসের হাট এলাকায় রাজনৈতিক সভায় যান। ২০২৪ সালের ২২ জুন শহরের ঝুমুর এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সে সাধারণ যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে।

কথা হলে সাবেক চেয়ারম্যান খালেদ সাইফুল্লাহ জানিয়েছেন, ‘স্বপ্নযাত্রা’ কেউ ভাড়ায় নেন না। পড়ে থাকে। চালককে বেতন দিতে হয়। এ জন্য তিনি ভাড়ায় ব্যবহার করেছেন।
চরের বাসিন্দা মো. আজগর হোসেন বলেন, ‘জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে তিন থেকে চার হাজার টাকা দিয়ে নৌকা ভাড়া করতে হয়। অনেক সময় নদী পার হওয়ার আগেই রোগী মারা যায়। সরকারি ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সটি চালু থাকলে আজ কত শত গরিব মানুষের প্রাণ বাঁচত।’
চরবাসীর চরম ভোগান্তির কথা স্বীকার করে রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামনাশিস মজুমদার বলেন, ‘এটি বন্ধ থাকায় চরাঞ্চলের জটিল রোগীর জরুরি সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এটি দ্রুত সচল করা প্রয়োজন।’
ইউএনও শেখ এহসান উদ্দীন জানান, অচল থাকা ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সটি দ্রুত মেরামত করে পুনরায় চরাঞ্চলের রোগী পরিবহনে চালু করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান এ নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

আরও পড়ুন

×