উদ্বোধনের পাঁচ বছরেও চালু হয়নি আইসিটি সেন্টার
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর সাবেক ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায় নির্মিত আইসিটি সেন্টারটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। গত বৃহস্পতিবার তোলা সমকাল
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৪১
| প্রিন্ট সংস্করণ
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর সাবেক ছিটমহলের বাসিন্দাদের ডিজিটাল সেবার আওতায় আনতে ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি আইসিটি সেন্টার নির্মাণ করা হয়। ২০২১ সালে আইসিটি সেন্টারটি উদ্বোধন করার পাঁচ বছর পার হলেও সেটি চালু হয়নি। এতে তথ্যপ্রযুক্তি শেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী ও তরুণরা। এ ছাড়া দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ ভবনে অব্যবহৃত পড়ে নষ্ট হচ্ছে কম্পিউটারসহ নানা সরকারি সম্পদ। ফলে ছিটমহলবাসীকে স্বপ্ন দেখানো প্রকল্পটি তাদের গভীর হতাশার কারণে পরিণত হয়েছে।
আইসিটি সেন্টারের ভবনটি দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় অবহেলার চিহ্ন স্পষ্ট। চারপাশে আগাছা, ভবনের বিভিন্ন অংশে নষ্ট এবং কার্যক্রমের কোনো চিহ্ন নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, উদ্বোধনের পর সেখানে কিছু আনুষ্ঠানিকতা হলেও সেন্টারের কার্যক্রম শুরু হয়নি। আশপাশের শিক্ষিত তরুণ-তরুণী আইসিটি সেন্টারের কোনো সুবিধা পায়নি। দীর্ঘদিন ভবনটি অব্যবহৃত পড়ে থাকায় দরজা-জানালা, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও আসবাব নষ্ট হতে বসেছে। সরকারের লাখ লাখ টাকার বিনিয়োগ কার্যত কোনো জনসেবায় আসেনি।
গত বুধ ও বৃহস্পতিবার সরেজমিন দেখা যায়, বেলা ১১টা পার হলেও আইসিটি সেন্টারে ঝুলছে তালা। প্রবেশ পথে গরু বাঁধাসহ শুকনো খড়কুটো আর ময়লা আবর্জনায় ভরা। সিঁড়ি বেয়ে উঠার রাস্তায় সিগারেটের অবশিষ্ট আর প্যাকেটের স্তূপ। জানালাগুলো ভেঙে পড়ে আছে। ভেতরে চারপাশ মাকড়সার জাল আর ধুলার আস্তর। জানালা দিয়ে দেখা যায়, কম্পিউটারগুলো এলোমেলোভাবে পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়াতে সরঞ্জামগুলো অকেজো হওয়ার পথে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, উদ্বোধনের সময় নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে কেন্দ্রটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ইন্টারনেট সংযোগ, জনবল নিয়োগ আর প্রশাসনিক জটিলতায় এটি বন্ধ রয়েছে। সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত একটি স্থাপনা বছরের পর বছর অকেজো পড়ে থাকলেও কারও কোনো জবাবদিহি নেই।
ছিটমহলে অবস্থিত দাসিয়ারছড়া মহাবিদ্যালয়ের আইসিটিবিষয়ক শিক্ষক জয়ন্ত চন্দ্র সরকার বলেন, ‘ছিটমহলের শিক্ষার্থী ও তরুণদের কম্পিউটার শিক্ষা, ইন্টারনেট সুবিধা এবং ডিজিটাল সেবা দেওয়ার কথা ছিল এই সেন্টার থেকে। বাস্তবে তারা কোনো সুবিধাই পাননি। এটি সরকারি অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
দাসিয়ারছড়া মহাবিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহমুদ হাসান বলেন, ‘ আইসিটি সেন্টারটি চালু থাকলে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, অনলাইন আবেদন, চাকরির প্রস্তুতি ও বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা সহজেই পাওয়া যেত। বছরের পর বছর ধরে ভবনটি বন্ধ থাকায় আমরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।’
জেলা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের জেলা আইসিটি অফিসার মো. সাইফ বিন হাসান বলেন, ‘দাসিয়ারছড়া আইসিটি সেন্টারটিতে কিছু অবকাঠামো দিক দুর্বলতা রয়েছে। ভবনের ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে, লোকবলও নেই। সমস্যার সমাধানে আমরা ইউএনওর মাধ্যমে রংপুরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছি।’
ছিটমহল বিনিময়ের আন্দোলনের নেতা ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. মনির হোসেন বলেন, আমাদের এলাকার শিক্ষিত ছেলেমেয়েদের কম্পিউটার শিখতে ফুলবাড়ী ও কুড়িগ্রামে যেতে হয়। আইসিটি সেন্টারটি চালু হলে এই এলাকার শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের বিরাট উপকার হতো।’
- বিষয় :
- আইসিটি খাত