দেড় বছর টাকা তোলার পর হঠাৎ অফিসে তালা
ছবি: সংগৃহীত
ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৩:৫৬ | আপডেট: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০০:০১
ভবিষ্যতের নিরাপত্তার আশায় গ্রাহকরা ‘সোনালী সেবা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা দিতেন। সেই হিসাব লেখা হতো গ্রাহকদের নিজস্ব জমা বইয়েও। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে এভাবেই শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে সঞ্চয় ও ডিপিএসের নামে টাকা সংগ্রহ করা হয়।
কিন্তু হঠাৎ করেই সবার অজান্তে প্রতিষ্ঠানের দুয়ারে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। কাউকে কিছু না জানিয়েই সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি বাজারে অবস্থিত ওই প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও উধাও হয়ে গেছেন। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পাইকুরাটিতে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এর মালিক ধর্মপাশা উপজেলা সদরের নতুনপাড়ার বিনয় ভূষণ চৌধুরীর ছেলে বিকাশ রঞ্জন চৌধুরী। যিনি নেত্রকোনার বারহাট্টায় একটি বেসরকারি সংস্থার এজেন্ট ব্যাংক পরিচালনা করেন।
ধর্মপাশা উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের নথিতে সোনালী সেবা নামে কোনো সমবায় প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনই নেই। তবুও পাইকুরাটি বাজারে অফিস খুলে ডিপিএস ও বিভিন্ন সঞ্চয় কর্মসূচির কথা বলে নিয়মিত টাকা সংগ্রহ করত প্রতিষ্ঠানটি। কোনো আগাম তথ্য ছাড়াই জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে অফিসে তালা ঝুলতে দেখেন গ্রাহকরা। পাইকুরাটি থেকে গত দেড় বছরে শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে ছোট ছোট কিস্তিতে সংগ্রহ করা অর্থের মোট পরিমাণ কত, সেটি এখন অনুসন্ধানের বিষয়। গ্রাহকদের ডিপিএস বই, রসিদ ও হিসাব নম্বর যাচাই করলে এই অর্থের সঠিক পরিমাণ জানা সম্ভব। পাইকুরাটি ছাড়াও নেত্রকোনার বারহাট্টা ও মোহনগঞ্জের আদর্শনগরেও সোনালী সেবার আরও দুটি শাখা রয়েছে।
পাইকুরাটি শাখার ১০৬ নম্বর ডিপিএস হিসাবের গ্রাহক ভাটগাঁও গ্রামের বাসিন্দা হোসনে আরা জানান, তিনি টানা ১২ মাসে ১২ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। এ ছাড়া কুড়িকাহনিয়া গ্রামের সুভাষ চন্দ্র পাল ৫৫ হাজার টাকা, ধোবালা গ্রামের ঝুটন দেবনাথ ৩০ হাজার ৩০০ টাকা এবং গাছতলা বাজারের ফার্মেসি ব্যবসায়ী সাদেক ১৯ হাজার ৮০০ টাকা জমা দিয়েছিলেন। এসব গ্রাহকসহ অন্যরাও এখন তাদের জমানো টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
পাইকুরাটিতে প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয় ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন নেত্রকোনার দুর্গাপুরের বাসিন্দা আবুল হোসেন। তিনি জানান, তাঁকে এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করার জন্য নিয়োগ দিয়েছিলেন বিকাশ রঞ্জন চৌধুরী নিজেই এবং বিকাশই এর মূল মালিক। আবুল হোসেন আরও জানান, বারহাট্টা ও মোহনগঞ্জেও প্রতিষ্ঠানটির শাখা রয়েছে। তবে বর্তমানে তিনি এই প্রতিষ্ঠানে আর কর্মরত নেই বলে দাবি করেন।
সোনালী সেবার কথিত মালিক বিকাশ রঞ্জন চৌধুরী বলেন, এটি মূলত ইলেকট্রনিক পণ্য (মোবাইল, ফ্রিজ, টিভি) বিক্রির জন্য দেওয়া হয়েছিল। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা অনুমোদন ছাড়া আর্থিক লেনদেন শুরু করায় আমি তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে বলেছিলাম। গ্রাহকদের টাকা কী করা হয়েছে, তা তাঁর জানা নেই। দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে বিধি অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- ধর্মপাশা