প্রেমিকাকে মোবাইল কিনে দিতে নিজেকে অপহরণের নাটক, অবশেষে ধরা
পুলিশি অভিযানে উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থী
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬ | ২০:০৫
প্রেমিকাকে নতুন মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার মতো টাকা ছিল না। তাই পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে নিজের অপহরণের নাটক সাজান বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার বাসিন্দা ও রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। তবে পুলিশের তদন্তে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ পায় ঘটনাটি।
শুক্রবার ওই শিক্ষার্থীকে রাজশাহী থেকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে দুপচাঁচিয়া থানা পুলিশ। তার নাম সাব্বির হোসেন।
তিনি বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ তৃতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার পলিমহেশপুর গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ জানায়, গত ২৮ জুলাই বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি সাব্বির। ওই দিন রাত ৮টার দিকে তার বাবা সিদ্দিকুর রহমান দুপচাঁচিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তিনি জানান, একটি আইপি নম্বর থেকে ফোন করে তাকে ছেলেকে মারধরের শব্দ শোনানো হয়। একই সঙ্গে সাব্বিরকে জীবিত ফেরত পেতে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
জিডির পরপরই দুপচাঁচিয়া থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে তারা সাব্বিরের অবস্থান রাজশাহী শহরে শনাক্ত করে। সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়। তবে তদন্তে দেখা যায়, তিনি কোনো অপহরণকারীর কবলে ছিলেন না, নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন।
পরে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সাব্বির স্বীকার করেন, প্রেমিকাকে নতুন মোবাইল ফোন উপহার দেওয়ার জন্য তিনি অপহরণের এই নাটক সাজিয়েছিলেন। ব্রিলিয়ান্ট অ্যাপের নম্বর ব্যবহার করে নিজেই বাবার কাছে ফোন দেন, মুক্তিপণ দাবি করেন এবং মারধরের অভিনয় করে পরিবারের সদস্যদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন।
দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজমিলুর রহমান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে সাব্বির তার ভুল স্বীকার করেছেন। প্রেমিকাকে মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার জন্য তিনি এ পরিকল্পনা করেছিলেন। এতে পুরো পরিবার চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে পড়ে। পরে নিজের ভুল উপলব্ধি করায় এবং পরিবারের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং শেষে তাকে বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।