হাটে উঠেছে নতুন পাট দাম বেশি, খুশি চাষিরা
উল্লাপাড়া পুরাতন বাসস্ট্যান্ড পাট হাটে কেনাবেচা করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। শনিবার তোলা সমকাল
উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:০০
| প্রিন্ট সংস্করণ
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার হাট-বাজারে চলতি মৌসুমের নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। দামও মিলছে ভালো। এতে চাষিরা বেশ খুশি। ভালো দাম পাওয়ায় বিক্রেতাদের মধ্যেও স্বস্তি দেখা দিয়েছে। গতবারের লোকসান এবার পুষিয়ে ওঠা যাবে বলে মনে করছেন তারা।
গতকাল শনিবার ও আগের দিন শুক্রবার উল্লাপাড়া পৌর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এবং কৃষকগঞ্জ ও বোয়ালিয়া পাটের হাট ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি মণ দেশি পাট তিন হাজার ৬০০ থেকে তিন হাজার ৮০০ টাকা, তোষা পাট তিন হাজার ৮০০ থেকে চার হাজার ৩০০ টাকা এবং কেনাফ ও মেস্তা পাট চার হাজার থেকে চার হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
উল্লাপাড়া হাটে আসা সদর ইউনিয়নের নাগরৌহা গ্রামের কৃষক সাইদুল ইসলাম জানান, সরিষা কাটার পরপরই তিনি তিন বিঘা জমিতে দেশি ও তোষা পাটের আবাদ করেন। ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। এক বিঘা দেশি পাট কেটে জাগ দিয়ে ধুয়ে শুকিয়ে প্রথমবার পাঁচ মণ পাট হাটে নিয়ে এসেছেন। ভালো দাম পাওয়ায় তিনি খুব খুশি।
কৃষকগঞ্জ হাটে কথা হয় পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের পূর্ব সাতবাড়িয়া গ্রামের কৃষক খোরশেদ আলমের সঙ্গে। তিনি জানান, গত বছর পাটের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় তিনি হতাশ হয়েছিলেন। এ কারণে এবার মাত্র চার বিঘা জমিতে দেশি ও তোষা পাটের আবাদ করেন। তবে মৌসুমের শুরুতেই ভালো দাম পাওয়ায় তাঁর মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। একই কথা জানান, হাটগুলোতে আসা বেতবাড়ী গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদের, বন্যাকান্দি গ্রামের আব্দুল মজিদ, সদাই গ্রামের হাবিবুর রহমানসহ আরও অনেক কৃষক।
উল্লাপাড়ার পাট ব্যবসায়ী জিল্লুর রহমান জানান, তারা এখানকার হাট থেকে পাট কিনে ফরিদপুর, খুলনা, যশোর, বগুড়া ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন মোকামে পাঠান। এ বছর ওইসব মোকামে পাটের চাহিদা বেশি থাকায় বাজারে দামও ভালো রয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীরা বেশি দামে পাট কিনতে পারছেন। কৃষকরাও ন্যায্য দাম পাচ্ছেন।
পাট ব্যবসায়ী জিল্লুর রহমান জানান, গত বছর এখানকার হাট-বাজারে এ সময় দেশি পাট বিক্রি হয়েছে মানভেদে দুই হাজার ৮০০ টাকা থেকে তিন হাজার ২০০ টাকা, তোষা তিন হাজার টাকা থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়া কেনাফ ও মেস্তা পাটের দাম গত বছর মনপ্রতি গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কম ছিল।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় এক হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হলেও এক হাজার ৬৭১ হেক্টরেরও বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে। ফলনও সন্তোষজনক। কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ২৫০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে তোষা পাটের বীজ এবং ডিএপি ও এমওপি সার বিতরণ করা হয়েছে। এবার প্রতি বিঘায় ৭ থেকে ৮ মণ পর্যন্ত পাটের ফলন হয়েছে।
উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী জানান, এবার উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলনও ভালো হয়েছে। কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে পাট চাষ ও উন্নত উপায়ে পাট জাগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে। কৃষকরা পাটের ন্যায্য দাম পেলে কৃষি বিভাগের সব প্রচেষ্টা সফল হবে বলে মনে করেন তিনি।
- বিষয় :
- পাট