স্কুলছাত্রী ও যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের সেই ঘটনায় মামলা
গোপালগঞ্জ থানা। ছবি: সমকাল
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬ | ১৪:৩৭ | আপডেট: ০৩ আগস্ট ২০২৬ | ১৫:০৪
গোপালগঞ্জে প্রেমের অপবাদ দিয়ে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী ও এক যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় এবার মামলা হয়েছে। রোববার রাতে কাশিয়ানী থানায় নির্যাতনের শিকার যুবকের বাবা শিবনাথ বাড়ৈ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখসহ আরও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। রোববার ভোরে প্রধান আসামি নয়ন গোলদারকে আটক করে পুলিশ।
মামলার আসামিরা হলেন কাশিয়ানী উপজেলার রাহুথড় গ্রামের নয়ন গোলদার (৪৫), সাগর রায় ওরফে সম্রাট (১৯), সনাতন সিকদার (২০), মিশন রায় (১৯), জিৎ বিশ্বাস (২০), অনিক মণ্ডল (১৯), জয় সিকদার (২২) ও চয়ন বিশ্বাস (২৩)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই দুপুরে স্কুলের টিফিনের সময় রাহুথড় উদয়ন বিদ্যাপীঠ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী এবং গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ভেন্নাবাড়ী কর্ণ কুসুম মহাবিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী স্কুলের পাশে কথা বলছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা তাদের আটক করে স্কুলের ভেতরে নিয়ে যান। সেখানে দুজনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, স্কুলছাত্রীকে টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানিও করা হয়। পরে যুবকের কাছে পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে যুবকের মামা পাঁচ হাজার টাকা দিলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পরদিন ২৯ জুলাই নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অপমান ও মানসিক চাপে স্কুলছাত্রী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে সে সুস্থ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কাশিয়ানী ও মুকসুদপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাফিছুর রহমান বলেন, ঘটনার পর প্রধান আসামি নয়ন গোলদার আত্মগোপনে চলে যান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
- বিষয় :
- নির্যাতনের শিকার
- যুবক
- মামলা
- গোপালগঞ্জ