আটা-চাল কিনতে সাত ঘণ্টা অপেক্ষা, ফিরে গেছেন অনেকই
ছবি: সমকাল
আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬ | ০৫:৪৫
আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে সকাল থেকেই মানুষের ভিড়। খোলাবাজারে পণ্য বিক্রির (ওএমএস) ট্রাক থেকে চাল কিনতে তারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছেন।
গতকাল সোমবার সকাল নয়টার দিকে মাঠে ট্রাক আসার আগে এ নারী-পুরুষের পৃথক সারিতে শত শত মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। নারীদের সারির মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে ছিলেন পৌরশহরের মাঝগ্রাম মহল্লার জোসনা বেওয়া। তিনি বলেন, ‘আটা আর চাল লিবার আসিছি, দিনই চলি যায়। বাড়ির কোনো কাজ হয় না। সকাল আটটার দিকে আইছি, এখন বিকেল সাড়ে তিনটা বাজে।’
উপজেলা পরিষদ চত্বরে খাদ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ন্যায্যমূল্যের বিশেষ ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কর্মসূচির আওতায় আটা ও চাল কিনতে এসে এমন ভোগান্তির কথা জানান জোসনা বেওয়া। সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও বিকেল পর্যন্ত তাঁর কেনাকাটার পালা আসেনি। একই দুর্ভোগে পড়েছেন আরও শত শত নিম্ন আয়ের মানুষ।
সরেজমিন দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা দুটি দীর্ঘ লাইন। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে অনেকেই লাইনের পাশে বসে অপেক্ষা করছেন। তীব্র গরম ও থেমে থেমে বৃষ্টির মধ্যে অপেক্ষার ক্লান্তি ও বিরক্তির ছাপ ছিল তাদের মুখে।
খাদ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে সপ্তাহে পাঁচ দিন (রোববার থেকে বৃহস্পতিবার) ওএমএস কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন দুই টন আটা ও দুই টন চাল বিক্রি করা হয়। একজন উপকারভোগী ২৭০ টাকায় পাঁচ কেজি আটা ও পাঁচ কেজি চাল কিনতে পারেন। প্রতিদিন ৪০০ জন এ সুবিধা পান।
বিক্রয়কেন্দ্রে দেখা যায়, উপকারভোগীদের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্য গ্রহণ, আঙুলের ছাপ নেওয়া, অমোচনীয় কালি লাগানো এবং পরে আটা-চাল বিতরণের পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে একজনের ১০ মিনিটেরও বেশি সময় লাগছে। ফলে বিক্রির গতি ধীর হয়ে দীর্ঘ লাইন সৃষ্টি হচ্ছে।
পৌর এলাকার মানিকপাড়া গ্রামের রহিমা বিবি বলেন, ‘সকাল সাতটার দিকে এসেছি। এখন দুপুর আড়াইটা বাজে, এখনো চাল-আটা পাইনি। এটা নিতে এসে সংসারের কোনো কাজ করতে পারছি না। গরম আর বৃষ্টির মধ্যে খুব কষ্ট হচ্ছে।’
লাইনে অপেক্ষমাণ আরও কয়েকজন জানান, বাজারের তুলনায় কম দামে খাদ্যপণ্য পাওয়ায় প্রতিদিনই মানুষের ভিড় থাকে। কিন্তু বিক্রির ধীরগতির কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এতে দিনমজুরদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, আর গৃহিণীদের সংসারের কাজও ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খন্দকার মো. মাহবুব হোসেন বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী দুটি বুথে প্রতিদিন দুই টন আটা ও দুই টন চাল বিক্রির কথা থাকলেও জনবল সংকটের কারণে বর্তমানে একটি বুথ থেকেই পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা ওএমএস কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক-উর-রহমান বলেন, খাদ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ওএমএস কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জনবল সংকটের কারণে চলতি মাস পর্যন্ত উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এরপর ডিলার নিয়োগের মাধ্যমে কর্মসূচি পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
- বিষয় :
- আক্কেলপুর
- ওএমএসের চাল