টেন্ডার ছাড়াই বিক্রি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাছ
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুকুরের পূর্বপাড়ে গতকাল দুপুরে কেটে রাখা গাছ সমকাল
বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:১৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
বরিশালের বানারীপাড়ায় মসজিদ সংস্কারের নামে টেন্ডার ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১০টি মেহগনিসহ ১৪টি গাছ বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব গাছ এক লাখ পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি দেখানো হলেও গাছ কেনাবেচায় সংশ্লিষ্টদের মতে এসব গাছগুলোর প্রকৃত বাজার মূল্য আরও অনেক বেশি।
গতকাল সোমবার দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুকুরের পূর্বপাড়ে মসজিদ লাগোয়া বাগানে শ্রমিকরা মেহগিনি ও নারকেল গাছগুলো কেটে সমিলে (করাত কল) নেওয়ার জন্য প্রস্তুত করছেন। এ সময় সেখানে থাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহকারী শাওন জানান, হাসপাতালের মসজিদের দোতলার কাজ করার জন্য জাহাঙ্গীর সরদার নামের এক গাছ ব্যবসায়ীর কাছে এক লাখ পাঁচ হাজার টাকায় গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের অনুমতি নিয়ে গাছ বিক্রি করা হয়েছে।
গাছের ক্রেতা বানারীপাড়ার রায়েরহাটের সমিল মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছ থেকে তিনি এক লাখ পাঁচ হাজার টাকায় ১০টি মেহগিনি ও ৪টি নারকেল গাছ কিনে গত তিন দিন ধরে তা কেটে নিচ্ছেন।
টেন্ডার ছাড়া গাছ বিক্রির কথা স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফুল আজিজ বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাছাড়া টেন্ডার দিলে গাছ বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হতো। এসব কারণে মসজিদ সংস্কারের জন্য টেন্ডার ছাড়া গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে। বিষয়টি ইউএনও অবগত আছেন বলেও তিনি জানান।
উপজেলা বন. কর্মকর্তা মো. তাহেরুল ইসলাম বলেন, তাঁর কাছ থেকে এক বছর আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকটি গাছের মূল্য নির্ধারণ করে নেওয়া হয়েছিল। তবে মূল্য নির্ধারণ করা
হলেও টেন্ডার ছাড়া সরকারি গাছ বিক্রির কোনো সুযোগ নেই।
বানারীপাড়া ইউএনও মো. বায়েজিদুর রহমান বলেন, মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ও টেন্ডার ছাড়া সরকারি গাছ কাটা ও বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা গাছের ঝুঁকিপূর্ণ ঢাল কাটার কথা তাঁকে জানিয়েছিলেন। তাঁকে গাছ কাটা ও বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়নি।
- বিষয় :
- গাছ কাটা