ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামে গ্যাস সংকটে জনজীবনে নাভিশ্বাস

চট্টগ্রামে গ্যাস সংকটে জনজীবনে নাভিশ্বাস
×

ছবি: সংগৃহীত

 চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:০৮ | আপডেট: ০৪ আগস্ট ২০২৬ | ১২:০৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে গ্যাস সংকটে অচল হয়ে পড়ছে জনজীবন। রাতভর লাইনে দাঁড়িয়ে সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে মিলছে মাত্র ২০০-৩০০ টাকার গ্যাস। এতে সড়কে নামছে না অধিকাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও বাস। যানবাহন সংকটে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এই সুযোগে নগরীতে গণপরিবহনে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।     

অন্যদিকে নগরীর বাসাবাড়িতে দিনে গ্যাস না থাকায় রান্না বন্ধ। বাধ্য হয়ে বাড়তি খরচে হোটেলের খাবারে নির্ভর করছে অনেক পরিবার। কেউ কেউ গভীর রাতে গ্যাস এলে রান্না করে রাখছেন। গত দুই দিন ধরে বাসায় রান্নার গ্যাস পাচ্ছেন না বহদ্দারহাট খতিবের হাট এলাকার বাসিন্দা আফরোজা স্বপ্না। তিনি বলেন, ‘বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। হোটেল থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে।’ 

হালিশহর বড়পোল এলাকার রেস্তোরাঁর কর্মী বলেন, ‘গ্যাস সংকটের কারণে বাসাবাড়িতে রান্না কম হচ্ছে। তাতে আমাদের দোকানে বিক্রি বেড়ে গেছে।’

গতকাল সোমবার নগরের অক্সিজেন, বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদ, কর্ণফুলী, হালিশহর, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, পতেঙ্গাসহ কয়েকটি এলাকার সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ পাম্পে গভীর রাত থেকেই গাড়ির দীর্ঘ সারি। এমনকি দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না চালকেরা। সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘অক্সিজেন এলাকার ফিলিং স্টেশনে সারারাত লাইনে দাঁড়িয়ে সকালে মাত্র ৩০০ টাকার গ্যাস পেয়েছি। এই দিয়ে গাড়ি চালিয়ে মালিকের জমাও উঠবে না।’

কক্সবাজারের মহেশখালীতে গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জি কোম্পানির এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে ব্যাপক ঘাটতি দেখা দেয়। বর্তমানে বিকল্প টার্মিনাল থেকে সরবরাহ অব্যাহত থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) জানাচ্ছে, প্রায় ৩৫ কোটি ঘনফুট দৈনিক চাহিদার বিপরীতে রোববার সরবরাহ ছিল মাত্র ১৯ কোটি ঘনফুট। 

গ্যাস সংকটে সড়কে অর্ধেকেরও বেশি সিএনজিচালিত যান নামতে পারেনি বলে দাবি পরিবহন সংশ্লিষ্টদের। ষোলশহর ২ নম্বর গেইট থেকে নিউমার্কেটগামী যাত্রী বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘এক ঘণ্টার  বেশি অপেক্ষা করেও কোনো খালি সিএনজি অটোরিকশা পাইনি। শেষ পর্যন্ত কিছুদূর টেম্পোতে, কিছুদূর রিকশায় করে এসেছি। অফিসে আসতে দেরি হয়ে গেছে।’ 

আগ্রাবাদ মোড়ে কথা হয় শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শাকিলের সঙ্গে। বাসে অতিরিক্ত ভিড় থাকায় জাকির হোসেন সড়কের এমইএস কলেজে যেতে শেষ পর্যন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়েছেন তিনি। তাতে দেড়শ টাকা ভাড়া গুণতে হয়েছে এই শিক্ষার্থীকে। 

আরও পড়ুন

×