ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাবেক স্ত্রীকে ভাড়াটে দিয়ে হত্যার মামলায় কারাগারে জামায়াত নেতা

সাবেক স্ত্রীকে ভাড়াটে দিয়ে হত্যার মামলায় কারাগারে জামায়াত নেতা
×

আবু বকর ছিদ্দিক

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬ | ১৭:০৫

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সাবেক স্ত্রীকে ভাড়াটে ব্যক্তির মাধ্যমে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি ও জামায়াতের রুকন আবু বকর ছিদ্দিক আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। পরে তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার দুপুরে তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাদেকুর রহমান আবেদনটি নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আবু বকর ছিদ্দিক কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়ন জামায়াতের রুকন। তিনি একই ইউনিয়নের চর সামছুদ্দিন গ্রামের আলী উল্যা হাওলাদারের ছেলে।

আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, নিহত সালেহা বেগমের সঙ্গে আবু বকর ছিদ্দিকের গোপনে বিয়ে হয়েছিল। পরে তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে। জমি কেনার জন্য নেওয়া ৩০ লাখ টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২৫ সালের ১৫ জুন দিবাগত রাতে ভাড়াটে ব্যক্তি মো. সেলিমকে দিয়ে সালেহাকে হত্যা করানোর অভিযোগ ওঠে।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ২০২৫ সালের ১৬ জুন কমলনগরের মতিরহাট সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে নুনু সর্দারের পরিত্যক্ত ভিটা থেকে সালেহা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর মেয়ে ফাতেমা বেগম অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। তদন্তের একপর্যায়ে সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।

চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, সেলিম তাঁর জবানবন্দিতে জানান, ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে আবু বকর ছিদ্দিক তাঁকে সালেহাকে হত্যার দায়িত্ব দেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী সালেহাকে নির্জন স্থানে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ সেলিম ও আবু বকর ছিদ্দিককে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। সেলিম কারাগারে থাকলেও আবু বকর দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। পরে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসাইন বলেন, চার্জশিটভুক্ত দ্বিতীয় আসামি আবু বকর ছিদ্দিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন। আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

নিহত সালেহা বেগমের ছেলে শরীফ উদ্দিন ও মো. আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, অর্থনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁদের মাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাঁরা এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

আরও পড়ুন

×